কাজের পাতায় ফিরুন

প্রিন্ট উইন্ডোতে গন্তব্য হিসেবে 'Save as PDF' বেছে নিন।

দেশের কাজ

শিশুকে পানিতে ডোবা থেকে বাঁচানো

গ্রামের বাড়ির পাশের পুকুর-ডোবায় বেড়া, আর মা-বাবাদের নিয়ে উঠান বৈঠক: ছোট শিশুকে চোখে চোখে রাখা।

শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী যত্ন

এলাকা

রাঙ্গামাটি

দরকার

৬ জন

সময়

আনুমানিক ১০ ঘণ্টা

মাত্রা

মাঝারি

কাজটি সম্পর্কে

কাপ্তাই হ্রদের জেলা রাঙ্গামাটিতে অনেক বাড়ি পানির ধারে; ছোট শিশুদের পানি থেকে নিরাপদ রাখা জরুরি। গ্রামের বাড়ির পাশের যে পুকুর বা ডোবায় বেড়া নেই, মালিকের অনুমতি নিয়ে সেখানে বাঁশের বেড়া ও গেট; আর উঠান বৈঠকে মা-বাবা ও দাদা-দাদিদের সঙ্গে ঠিক করা — সকালের ব্যস্ত সময়ে ছোট শিশুকে কে দেখবেন।

কেন জরুরি

বাংলাদেশে ছোট শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ পানিতে ডোবা, আর বেশিরভাগ ঘটে বাড়ির কয়েক মিটারের মধ্যে, দিনের বেলা, যখন বড়রা কাজে ব্যস্ত। একটি বেড়া আর একজনের নজর এই মৃত্যু ঠেকায়।

কাজ শেষে কী বদলাবে

অন্তত ১০টি পুকুরে বেড়া; প্রতিটি পরিবারের সকালের দেখাশোনার ব্যবস্থা ঠিক; কাছের শিশু-যত্নকেন্দ্র থাকলে তার খোঁজ।

কারা যোগ দিতে পারেন

বাঁশের কাজ জানা মানুষ খুব কাজের; উঠান বৈঠকে স্থানীয় কেউ থাকলে ভালো।

ধাপে ধাপে

  1. ১

    ঝুঁকির পুকুর চিহ্নিত করা১২০ মিনিট

    বাড়ির ২০ মিটারের মধ্যে যে পুকুর বা ডোবায় বেড়া নেই, তার তালিকা।

    হয়েছে
  2. ২

    বাঁশের বেড়া৩০০ মিনিট

    মালিকের অনুমতি নিয়ে, অন্তত এক মিটার উঁচু, ফাঁক ছাড়া; সঙ্গে ঢুকতে না পারার মতো গেট।

    হয়েছে
  3. ৩

    উঠান বৈঠক১২০ মিনিট

    সকালের রান্নার সময়টাই ঝুঁকির: কে শিশুকে দেখবেন, ঠিক করা।

    হয়েছে

প্রস্তুতির তালিকা

  • বাঁশ · প্রতি পুকুরে ১৫-২০টি
  • দড়ি · প্রয়োজনমতো

কাজ শেষ বলব কখন

  • অন্তত ১০টি পুকুর বা ডোবায় বেড়া
  • অন্তত ৩টি উঠান বৈঠক

যে প্রমাণ লাগবে: আগের ছবি, পরের ছবি

⚠ নিরাপত্তা

পানির ধারে কাজের সময় শিশুদের দূরে রাখুন। কেউ সাঁতার না জানলে পানিতে নামবেন না।

খরচের হিসাব

বাঁশপ্রায় ১৮০টি (১০ পুকুরে)৳১২০–২৫০
নারকেলের দড়ি বা নাইলনের দড়ি১০ বান্ডিল৳১৫০–৩০০
জিআই তার ও পেরেকপ্রতি পুকুরে ১ সেট৳১০০–২০০
গেটের কবজা ও উঁচুতে বসানো ছিটকিনি১০ সেট৳৮০–১৫০
উঠান বৈঠকের চা-মুড়ি৩টি বৈঠক৳৩০০–৬০০
বৈঠকের ছবিসহ পোস্টার৩টি৳৫০–১০০
মোট (আনুমানিক)৳২৬,০০০–৫৩,৬০০

প্রস্তুতির সময়সূচি

  • ৩ সপ্তাহ আগে

    গ্রাম ঘুরে বাড়ির ২০ মিটারের মধ্যে বেড়াহীন পুকুর-ডোবার তালিকা করুন; কোন বাড়িতে ৫ বছরের কম শিশু আছে, লিখুন।

    যেখানে ছোট শিশু বেশি, সেই পুকুরগুলো আগে রাখুন।

  • ২ সপ্তাহ আগে

    প্রতিটি পুকুরের মালিকের লিখিত অনুমতি নিন; বাঁশ দিতে পারবেন কি না জিজ্ঞেস করুন।

    উঠান বৈঠকের তিনটি বাড়ি ও সময় ঠিক করুন; মা, বাবা, দাদা-দাদি সবাইকে ডাকুন।

  • ৫ দিন আগে

    বাঁশ, দড়ি, তার, কবজা জোগাড় করুন; বাঁশের কাজ জানা মানুষ ঠিক করুন।

    দা, করাত, খন্তা ধার করে রাখুন।

  • কাজের দিনগুলো

    প্রতিদিন ৩-৪টি পুকুরে বেড়া; অন্তত এক মিটার উঁচু, ফাঁক ছাড়া, গেটের ছিটকিনি শিশুর নাগালের বাইরে।

    বিকেলে বা সন্ধ্যায় উঠান বৈঠক।

  • এক মাস পরে

    সব বেড়া ঘুরে দেখুন: ভাঙা, ফাঁক, গেট খোলা থাকে কি না।

    মালিককে বছরে একবার বাঁশ বদলের কথা মনে করিয়ে দিন।

দলে কে কী করবেন

  • দলপ্রধান ও তালিকাকারী (১): পুকুরের তালিকা, মালিকের অনুমতি, কাজের ক্রম ঠিক করা। — ____________
  • বেড়া দল (৩): বাঁশ কাটা, পোঁতা, বাঁধা, গেট বসানো; পানির ধারে নিরাপদে কাজ। — ____________
  • উঠান বৈঠকের আলোচক (১): স্থানীয় একজন, মা-বাবা ও দাদা-দাদিদের সঙ্গে সকালের দেখাশোনার ব্যবস্থা ঠিক করা। — ____________
  • শিশুদের দূরে রাখা (১): কাজের সময় কৌতূহলী শিশুদের পানি থেকে দূরে রাখা। — ____________

কাজের দিনের সূচি

  • 07:30দল জড়ো; বাঁশ, দড়ি, যন্ত্র ভাগ; কে শিশুদের দূরে রাখবেন, ঠিক।
  • 08:00প্রথম পুকুর: আগের ছবি, খুঁটি পোঁতা, বাঁধা।
  • 10:00দ্বিতীয় পুকুর; প্রথমটির গেট বসানো।
  • 12:30খাওয়া ও বিশ্রাম।
  • 13:30তৃতীয় পুকুর; প্রতিটি বেড়া হাতে ঠেলে দেখা শক্ত কি না।
  • 15:30পরের ছবি তোলা; মালিককে গেট বন্ধ রাখার কথা বলা।
  • 16:30উঠান বৈঠক: সকালের রান্নার সময় কে শিশুকে দেখবেন; ডুবে গেলে কী করবেন।

যা ভুল হতে পারে, তখন কী করবেন

  • কাজের সময় কেউ পানিতে পড়ে যান। → সাঁতার না জানলে পানির ধারে নয়; তীরে একটি লম্বা বাঁশ বা দড়ি রাখুন, পানিতে না নেমে বাড়িয়ে টেনে তুলুন।
  • কোনো শিশু পানিতে ডুবে গেছে। → তুলে আনুন, সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯; শ্বাস না থাকলে প্রশিক্ষিত কেউ সিপিআর দেবেন। শিশুকে উল্টো করে ঘোরাবেন না, পেট চেপে পানি বের করার চেষ্টা করবেন না। ঠিক মনে হলেও হাসপাতালে নিন।
  • দা বা করাতে হাত কাটা। → যন্ত্র শুধু অভিজ্ঞরা ধরবেন; কাটলে পরিষ্কার কাপড়ে চেপে ধরুন, গভীর হলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।
  • মালিক পরে বেড়া খুলে ফেলেন বা গেট খোলা রাখেন। → গেট এমন জায়গায় রাখুন যাতে পানি আনা-নেওয়ায় সুবিধা হয়; মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে নকশা ঠিক করুন।

দরকারি ফোন নম্বর

  • 999জাতীয় জরুরি সেবা: পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স (বিনা খরচে)
  • 1098শিশু সহায়তা হেল্পলাইন
  • 16263স্বাস্থ্য বাতায়ন: ডাক্তারের পরামর্শ

সাধারণ প্রশ্ন

বেড়ার বাঁশ কে দেবে?
অনেক সময় পুকুরের মালিক বা গ্রামের মানুষ দেন; না হলে কাজের পাতায় প্রতিশ্রুতি নিন।
পুরো সময় থাকতে না পারলে কি যোগ দেওয়া যাবে?
হ্যাঁ। যোগ দেওয়ার অনুরোধে লিখে দিন কোন ধাপে বা কোন সময়ে পারবেন। দলপ্রধান সেই ধাপটি আপনার নামে দেবেন।

দলের নোট