কাজের পাতায় ফিরুন

প্রিন্ট উইন্ডোতে গন্তব্য হিসেবে 'Save as PDF' বেছে নিন।

দেশের কাজ

তাপপ্রবাহে খাবার পানি ও ছায়া

তীব্র গরমের দিনে রিকশাচালক, শ্রমিক ও পথচারীদের জন্য একটি মোড়ে ঠান্ডা খাবার পানি, স্যালাইন আর ছায়া।

স্বাস্থ্যবিধি ও স্বাস্থ্য

এলাকা

মেহেরপুর

দরকার

৪ জন

সময়

আনুমানিক ৬ ঘণ্টা

মাত্রা

সহজ

কাজটি সম্পর্কে

দেশের পশ্চিম সীমান্তের জেলা মেহেরপুরে গ্রীষ্মে প্রচণ্ড গরম পড়ে। তাপপ্রবাহের দিনে একটি রিকশাস্ট্যান্ড বা ব্যস্ত মোড়ে পাশের দোকানের সম্মতিতে ঢাকনাসহ ড্রামে ফিল্টার করা ঠান্ডা পানি, খাবার স্যালাইন আর ত্রিপলের ছায়া — দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টা। স্বেচ্ছাসেবকরা গরমে অসুস্থতার লক্ষণও চিনিয়ে দেন।

কেন জরুরি

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এপ্রিল-মে মাসে তাপমাত্রা প্রায়ই ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়। যাঁরা রোদে কাজ করেন — রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, হকার — তাঁদের হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, অথচ পথে নিরাপদ পানি পাওয়া কঠিন।

কাজ শেষে কী বদলাবে

নির্ধারিত দিনগুলোতে পানির পয়েন্ট চালু; কত গ্লাস পানি ও স্যালাইন গেল তার হিসাব; পাশের দোকান পরের গরমে নিজেই চালাতে রাজি।

কারা যোগ দিতে পারেন

যে কেউ; দুপুরের পালায় যাঁরা রোদ সহ্য করতে পারেন।

ধাপে ধাপে

  1. ১

    জায়গা ও অনুমতি৬০ মিনিট

    রিকশাস্ট্যান্ড বা ব্যস্ত মোড়, পাশের দোকানের সম্মতি।

    হয়েছে
  2. ২

    পানির ড্রাম ও ছায়া৯০ মিনিট

    ঢাকনাসহ ফিল্টার করা পানির ড্রাম, গ্লাস ধোয়ার ব্যবস্থা, ত্রিপলের ছায়া।

    হয়েছে
  3. ৩

    দুপুরের পালা৩০০ মিনিট

    সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা, পানি ভরা ও গরমে অসুস্থতার লক্ষণ চেনানো।

    হয়েছে

প্রস্তুতির তালিকা

  • পানির ড্রাম (ঢাকনাসহ) · ২টি
  • খাবার স্যালাইন · ১০০ প্যাকেট
  • ত্রিপল · ১টি

কাজ শেষ বলব কখন

  • নির্ধারিত দিনে পানির পয়েন্ট চালু ছিল

যে প্রমাণ লাগবে: ছবি

⚠ নিরাপত্তা

শুধু ফিল্টার বা ফোটানো পানি। কেউ অজ্ঞান হলে ছায়ায় শুইয়ে ৯৯৯।

খরচের হিসাব

ঢাকনা ও ট্যাপসহ পানির ড্রাম (১০০ লিটারের মতো)২টি৳১,০০০–১,৮০০
ফিল্টার করা পানির জার (২০ লিটার)৩ দিনে প্রায় ৩০টি৳৪০–৮০
খাবার স্যালাইন (ওআরএস)১০০ প্যাকেট৳৬–৮
ত্রিপল (ছায়ার জন্য) ও দড়ি১টি৳৮০০–১,৫০০
স্টিলের গ্লাস১০টি৳৪০–৮০
গ্লাস ধোয়ার বালতি, মগ ও সাবান১ সেট৳৩০০–৫০০
ব্যানার: “বিনা মূল্যে খাবার পানি”১টি৳৩০০–৬০০
মোট (আনুমানিক)৳৫,৬০০–১০,২০০

প্রস্তুতির সময়সূচি

  • ৭ দিন আগে

    রিকশাস্ট্যান্ড বা ব্যস্ত মোড় বেছে নিন, যেখানে পাশে দোকান আছে আর ফুটপাত আটকাবে না।

    দোকানের মালিকের সম্মতি নিন; ড্রাম রাতে কোথায় থাকবে ঠিক করুন।

    আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে কোন কোন দিন চালাবেন ঠিক করুন।

  • ৩ দিন আগে

    ড্রাম, গ্লাস, স্যালাইন, ত্রিপল কিনুন; ড্রাম সাবান-পানিতে ধুয়ে শুকিয়ে নিন।

    পানির জার সরবরাহকারীর সঙ্গে প্রতিদিন সকালে দেওয়ার কথা পাকা করুন।

    দলকে হিটস্ট্রোকের লক্ষণ ও করণীয় শিখিয়ে দিন।

  • আগের দিন

    পালা ঠিক করুন: কেউ যেন একটানা দুই ঘণ্টার বেশি রোদে না থাকে।

    ব্যানার, দড়ি ও টুল গুছিয়ে রাখুন।

  • কাজের দিন

    ১০:৩০-এর মধ্যে ত্রিপল টাঙিয়ে ড্রাম ভরুন; ঢাকনা সবসময় বন্ধ।

    প্রতি ঘণ্টায় কত গ্লাস ও কত স্যালাইন গেল খাতায় দাগ দিন।

    গরমে অসুস্থ কাউকে দেখলে ছায়ায় এনে ঠান্ডা করুন।

  • পরের সপ্তাহে

    ড্রাম ও ত্রিপল ধুয়ে শুকিয়ে দোকানে রাখুন, পরের তাপপ্রবাহের জন্য।

    দোকানের মালিক নিজে চালাতে রাজি কি না কথা বলুন।

দলে কে কী করবেন

  • দলপ্রধান (১): জায়গা ও সম্মতি, পানির জার সরবরাহ, পালার তালিকা। — ____________
  • পানি ও পরিচ্ছন্নতা (২): ড্রাম ভরা, ঢাকনা বন্ধ রাখা, প্রতিটি গ্লাস সাবানে ধোয়া। — ____________
  • স্বাস্থ্য সহায়ক (১): স্যালাইন গুলে দেওয়া, অসুস্থ মানুষকে ছায়ায় নেওয়া, দরকারে ৯৯৯। — ____________

কাজের দিনের সূচি

  • 10:00জড়ো হওয়া; পানির জার বুঝে নেওয়া, সিল দেখে নেওয়া।
  • 10:30ত্রিপল টাঙানো, ড্রাম ভরা, গ্লাস ধোয়ার বালতি সাজানো, ব্যানার।
  • 11:00পানির পয়েন্ট চালু; প্রথম পালা।
  • 13:00পালা বদল; আগের দলের ছায়ায় বিশ্রাম ও পানি।
  • 14:00সবচেয়ে গরম সময়: স্যালাইন বেশি লাগে, অসুস্থতার লক্ষণে নজর।
  • 15:00শেষ পালা; পানির হিসাব মিলানো।
  • 16:00ড্রাম খালি করে ধোয়া, ত্রিপল নামানো, দোকানে রাখা, খাতার ছবি।

যা ভুল হতে পারে, তখন কী করবেন

  • কেউ মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া বা অজ্ঞান হওয়া (হিটস্ট্রোক) → ছায়ায় শুইয়ে দিন, জামা ঢিলা করুন, ভেজা কাপড়ে শরীর মুছে বাতাস দিন; জ্ঞান থাকলে অল্প অল্প ঠান্ডা পানি বা স্যালাইন দিন; অজ্ঞান হলে মুখে কিছু দেবেন না, সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯-এ ফোন দিন।
  • পানি দূষিত হওয়া → শুধু সিলকরা ফিল্টার বা ফোটানো পানি দিন; ঢাকনা বন্ধ রাখুন, ড্রামে হাত বা গ্লাস ডোবাবেন না, ট্যাপ দিয়ে ঢালুন; সন্দেহ হলে পুরো ড্রাম ফেলে দিন।
  • স্বেচ্ছাসেবক নিজেই গরমে অসুস্থ → দুই ঘণ্টার বেশি একটানা রোদে নয়; টুপি, পানি, বিশ্রাম; অসুস্থ লাগলেই কাজ ছেড়ে ছায়ায়।
  • ফুটপাত আটকানো নিয়ে আপত্তি → দোকানের সামনে বা পাশে জায়গা নিন, হাঁটার পথ খোলা রাখুন; আপত্তি এলে বিনয়ের সঙ্গে সরে যান।

দরকারি ফোন নম্বর

  • 999জাতীয় জরুরি সেবা: পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স (বিনা খরচে)
  • 16263স্বাস্থ্য বাতায়ন: ডাক্তারের পরামর্শ

সাধারণ প্রশ্ন

হিটস্ট্রোকের লক্ষণ কী?
মাথা ঘোরা, বমি ভাব, ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি। ছায়ায় শুইয়ে শরীর ভেজা কাপড়ে মুছুন, ৯৯৯-এ ফোন করুন।
পুরো সময় থাকতে না পারলে কি যোগ দেওয়া যাবে?
হ্যাঁ। যোগ দেওয়ার অনুরোধে লিখে দিন কোন ধাপে বা কোন সময়ে পারবেন। দলপ্রধান সেই ধাপটি আপনার নামে দেবেন।

দলের নোট

তাপপ্রবাহে খাবার পানি ও ছায়া · দেশের কাজ