দেশের কাজ
জেব্রা ক্রসিং ও সাইনবোর্ড, ঢাকা
স্কুল বা হাসপাতালের সামনে রঙ করা ক্রসিং, সাইনবোর্ড, এক সপ্তাহ অভ্যাস।
এলাকা
ঢাকা
দরকার
১০ জন
সময়
আনুমানিক ১৬ ঘণ্টা
মাত্রা
মাঝারি
কাজটি সম্পর্কে
ঢাকার ব্যস্ত সড়কে স্কুলের সামনে পারাপারের নিরাপদ ব্যবস্থা অনেক জায়গায় নেই। একটি স্কুল বা হাসপাতালের সামনে পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নিয়ে রঙ করা জেব্রা ক্রসিং, দুই পাশে "সামনে স্কুল, গতি কমান" সাইনবোর্ড, আর এক সপ্তাহ স্কুল ছুটির সময় স্বেচ্ছাসেবকরা দাঁড়িয়ে শিশুদের পার হতে ও চালকদের থামতে অভ্যস্ত করেন।
কেন জরুরি
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোদের বড় অংশ পথচারী, আর তাঁদের মধ্যে শিশু অনেক। স্কুলের সামনে চিহ্নিত ক্রসিং ও সাইনবোর্ড চালককে আগে থেকে সতর্ক করে।
কাজ শেষে কী বদলাবে
ক্রসিং দেখা যায়, সাইনবোর্ড দাঁড়িয়ে আছে, আর স্কুল কমিটি ছুটির সময় একজন পাহারাদার রাখার দায়িত্ব নেয়।
কারা যোগ দিতে পারেন
১৮ বছরের বেশি; রঙের কাজে অভিজ্ঞ একজন থাকলে ভালো। অভ্যাস-সপ্তাহে স্কুলের বড় শিক্ষার্থীরাও যুক্ত হতে পারে।
ধাপে ধাপে
- ১হয়েছে
পৌরসভা বা ইউনিয়নের অনুমতি১২০ মিনিট
লিখিত অনুমতি, কোথায় রঙ হবে।
- ২হয়েছে
রঙ করা২৪০ মিনিট
ভোরে, কম গাড়ির সময়। সাদা রাস্তার রঙ।
- ৩হয়েছে
সাইনবোর্ড বসানো১২০ মিনিট
- ৪হয়েছে
এক সপ্তাহ স্বেচ্ছাসেবক৬০০ মিনিট
স্কুল শুরু ও ছুটির সময় দুজন।
প্রস্তুতির তালিকা
- রাস্তার রঙ · ১০ লিটার
- সাইনবোর্ড · ২টি
কাজ শেষ বলব কখন
- ক্রসিং দেখা যায়, সাইনবোর্ড দাঁড়িয়ে আছে
যে প্রমাণ লাগবে: আগের ছবি, পরের ছবি, রসিদ
⚠ নিরাপত্তা
রাস্তায় কাজের সময় ভেস্ট ও একজন পাহারায়।
খরচের হিসাব
| সাদা রোড মার্কিং রঙ | ১০ লিটার | ৳৩৫০–৬০০ |
| থিনার | ২ লিটার | ৳২০০–৩৫০ |
| রোলার ও চওড়া ব্রাশ | ৪টি | ৳১৫০–৩৫০ |
| মাস্কিং টেপ | ৬ রোল | ৳৮০–১৫০ |
| প্রতিফলিত সাইনবোর্ড, খুঁটিসহ | ২টি | ৳২,৫০০–৫,০০০ |
| প্রতিফলিত ভেস্ট | ৬টি | ৳১৫০–৩০০ |
| সিমেন্ট-বালু (খুঁটি বসাতে) | ১ সেট | ৳৬০০–১,২০০ |
| মোট (আনুমানিক) | ৳১১,৫০০–২২,০০০ | |
প্রস্তুতির সময়সূচি
৩–৪ সপ্তাহ আগে
স্কুল বা হাসপাতালের সঙ্গে কথা বলে জায়গা ঠিক করুন: যেখানে শিশুরা আসলে পার হয়।
কর্তৃপক্ষে লিখিত আবেদন দিন, রিসিভ কপি রাখুন।
সাইনবোর্ডের অর্ডার দিন (বানাতে ১–২ সপ্তাহ লাগে)।
৭ দিন আগে
লিখিত অনুমতি হাতে আছে কিনা নিশ্চিত হন; না থাকলে তারিখ পেছান।
ট্রাফিক পুলিশকে তারিখ ও সময় জানান।
রঙ, টেপ, রোলার, ভেস্ট কিনুন।
আগের দিন
আবহাওয়ার খবর দেখুন; বৃষ্টি হলে পেছান।
চক দিয়ে মাপ দিয়ে দাগ দিন (দিনে, পাহারায়)।
কাজের দিন
ভোরে লেন বন্ধ, রাস্তা ঝাড়ু, টেপ, রঙ।
রঙ শুকানো পর্যন্ত পাহারা।
সাইনবোর্ড বসানো।
পরের সপ্তাহে
স্কুল শুরু ও ছুটির সময় দুজন করে ভেস্ট পরে ক্রসিংয়ে।
স্কুল কমিটিকে স্থায়ী পাহারাদারের দায়িত্ব দিতে অনুরোধ।
দলে কে কী করবেন
- দলপ্রধান (১): অনুমতি, পুলিশ ও স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ; অনুমতিপত্র সঙ্গে রাখা। — ____________
- রঙের দল (৪): ঝাড়ু, টেপ, রঙ; একজন অভিজ্ঞ থাকলে ভালো। — ____________
- ট্রাফিক পাহারা (২): দুই দিকে পতাকা ও ভেস্ট পরে গাড়ি ধীর করানো; কেউ রাস্তার মাঝে একা নয়। — ____________
- সাইনবোর্ড দল (২): গর্ত, খুঁটি, সিমেন্ট; স্কুলের দুই দিকে ৫০–১০০ মিটার আগে। — ____________
- ছবি ও রসিদ (১): আগে-পরের ছবি, রসিদ, অনুমতিপত্রের ছবি। — ____________
কাজের দিনের সূচি
- 05:45জড়ো হওয়া, ভেস্ট পরা, দুই দিকে পাহারা দাঁড় করানো।
- 06:00এক লেন বন্ধ করে ঝাড়ু দিয়ে ধুলা সরানো।
- 06:20চকের দাগ ধরে টেপ লাগানো।
- 06:40প্রথম লেনে রঙ; পাহারা চলছে।
- 07:30দ্বিতীয় লেন; প্রথমটির চারপাশে দড়ি বা ইট দিয়ে আটকানো।
- 08:30সাইনবোর্ডের গর্ত ও খুঁটি বসানো, সিমেন্ট ঢালা।
- 10:00রঙ শুকালে টেপ তোলা; দরকার হলে দ্বিতীয় প্রলেপ।
- 11:00পরের ছবি, জায়গা পরিষ্কার, রাস্তা খুলে দেওয়া।
যা ভুল হতে পারে, তখন কী করবেন
- অনুমতি সময়মতো আসেনি → রঙ করবেন না। তারিখ পেছান, অফিসে আবার খোঁজ নিন।
- দ্রুতগামী গাড়ি থামছে না → কাজ থামিয়ে সবাই ফুটপাতে; পুলিশের সাহায্য নিন।
- রঙ শুকানোর আগে বৃষ্টি → লেন বন্ধ রাখুন, শুকনো দিনে দ্বিতীয় প্রলেপ দিন।
- কেউ আহত → রাস্তা থেকে সরিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিন; গুরুতর হলে ৯৯৯।
দরকারি ফোন নম্বর
- 999জাতীয় জরুরি সেবা: পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স (বিনা খরচে)
- 333সরকারি তথ্য ও সেবা, অভিযোগ
সাধারণ প্রশ্ন
- অনুমতি ছাড়া রঙ করা যাবে?
- না। রাস্তায় চিহ্ন দেওয়া কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব; লিখিত অনুমতির কপি প্রমাণে যুক্ত করুন।
- পুরো সময় থাকতে না পারলে কি যোগ দেওয়া যাবে?
- হ্যাঁ। যোগ দেওয়ার অনুরোধে লিখে দিন কোন ধাপে বা কোন সময়ে পারবেন। দলপ্রধান সেই ধাপটি আপনার নামে দেবেন।