নলকূপের আর্সেনিক খোঁজ, সাতক্ষীরা
গ্রামের প্রতিটি নলকূপের তালিকা — কোনটি সবুজ (নিরাপদ), কোনটি লাল (আর্সেনিক), কোনটির রং মুছে গেছে — আর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে পরীক্ষার আবেদন।
- ০/৪ জন
- আনুমানিক ৮ ঘণ্টা
- ২৫
- পয়েন্ট

কাজটি সম্পর্কে
সাতক্ষীরায় আর্সেনিক আর লবণাক্ততা — দুই কারণেই নিরাপদ খাবার পানি পাওয়া কঠিন। একটি গ্রামের প্রতিটি নলকূপ ঘুরে দেখা: সবুজ রং (নিরাপদ), লাল রং (আর্সেনিক), নাকি রং মুছে গেছে বা নতুন বসানো। তালিকা নিয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে পরীক্ষার আবেদন, আর লাল নলকূপের পরিবারগুলোকে কাছের নিরাপদ উৎস চিনিয়ে দেওয়া।
কেন জরুরি
বাংলাদেশের অনেক এলাকার নলকূপের পানিতে আর্সেনিক আছে, যা বছরের পর বছর খেলে ত্বকের রোগ ও ক্যান্সার হয়। দুই দশক আগে নলকূপ লাল-সবুজ রং করা হয়েছিল, কিন্তু অনেক রং মুছে গেছে আর নতুন নলকূপ কখনো পরীক্ষাই হয়নি।
কাজ শেষে কী বদলাবে
গ্রামের সব নলকূপের তালিকা; পরীক্ষার আবেদন জমা; লাল নলকূপের প্রতিটি পরিবার জানে কোথা থেকে খাবার পানি নেবে।
কারা যোগ দিতে পারেন
যে কেউ; গ্রামের রাস্তাঘাট চেনা স্থানীয় তরুণরা সবচেয়ে কাজের।
ধাপে ধাপে
০/৩ ধাপ শেষযেভাবে করবেন, যে ক্রমে।সব ধাপ মিলিয়ে প্রায় ৮ ঘণ্টা
- ১
নলকূপের তালিকা
মালিকের নাম, অবস্থান, রং (লাল/সবুজ/নেই), কত পরিবার পানি খায়।
২৪০ মিনিটখাতা
করা হয়নিদায়িত্বে:কেউ নেননি - ২
পরীক্ষার আবেদন
রং নেই বা সন্দেহের নলকূপের তালিকা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে জমা, রিসিভ কপিসহ।
১২০ মিনিট
করা হয়নিদায়িত্বে:কেউ নেননি - ৩
লাল নলকূপের পরিবারকে জানানো
কাছের কোন সবুজ নলকূপ বা নিরাপদ উৎস থেকে খাবার পানি নেবেন।
১২০ মিনিট
করা হয়নিদায়িত্বে:কেউ নেননি
কী কী লাগবে
- তালিকার খাতা · ২টি
কাজ শেষ বলব কখন
- গ্রামের সব নলকূপ তালিকায়
- জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের রিসিভ কপি
যে প্রমাণ লাগবে
- কাগজপত্র
- ছবি
কাজের পূর্ণ নির্দেশিকা
যা যা লাগবে, কীভাবে করবেন
আগে কখনো এই কাজ করেননি? সমস্যা নেই। খরচ, সময়সূচি, কে কী করবেন, কার সঙ্গে কথা বলবেন, কাজের দিনের সূচি, ঝুঁকি আর পাঠানোর মতো বার্তা — সব এখানে।
- আনুমানিক খরচ
- ৳১,১০০–২,৫০০
- দরকার
- ৪ জন
- মোট সময়
- ৮ ঘণ্টা
- বয়স
- ১৪ বছর বা বেশি
সেরা সময়নভেম্বর থেকে এপ্রিল, শুকনো মৌসুম; গ্রামের পথ শুকনো থাকে, মানুষও বাড়িতে বেশি পাওয়া যায়। সকালে ঘুরুন।
অনুমতিতালিকা করতে কারও অনুমতি লাগে না, তবে প্রতিটি নলকূপের মালিকের সম্মতি নিয়ে ছবি তুলুন। পরীক্ষা করবে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস।
খরচের হিসাব
দাম জেলা ও মৌসুমভেদে বদলায়; এটি ২০২৬ সালের আনুমানিক হিসাব। রসিদ রাখুন, প্রমাণে দিন।
| কী | কতটা | দাম |
|---|---|---|
| তালিকার খাতা (রেজিস্টার)২টিকোথায় পাবেন: স্টেশনারি দোকান | ২টি | ৳৮০–১৫০ |
| কলম ও মার্কার১ সেটকোথায় পাবেন: স্টেশনারি দোকান | ১ সেট | ৳৫০–১০০ |
| তালিকা ও আবেদনের ফটোকপি২০ পাতাকোথায় পাবেন: ফটোকপির দোকান | ২০ পাতা | ৳৩–৫ |
| উপজেলা সদরে যাতায়াত২ জন × ২ বারকোথায় পাবেন: বাস, সিএনজি বা অটোরিকশা | ২ জন × ২ বার | ৳১০০–৩০০ |
| পানি ও হালকা নাস্তা৪ জন × ২ দিনকোথায় পাবেন: গ্রামের দোকান | ৪ জন × ২ দিন | ৳৫০–১০০ |
| মোট (আনুমানিক) | ৳১,১০০–২,৫০০ | |
প্রস্তুতির সময়সূচি
২ সপ্তাহ আগে
- গ্রামকে পাড়া অনুযায়ী দুই ভাগে ভাগ করুন; দুজন করে দল।
- রেজিস্টারের ঘর বানান: নং, মালিক, অবস্থান/চিহ্ন, রং (লাল/সবুজ/নেই), কত পরিবার খায়, কবে বসানো, গভীরতা জানা থাকলে।
১ সপ্তাহ আগে
- উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে গিয়ে জানুন পরীক্ষার আবেদন কীভাবে দিতে হয়, কোন তথ্য লাগে।
- ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্যকে জানান।
তালিকার দিনগুলো
- প্রতিটি নলকূপে গিয়ে মালিকের সঙ্গে কথা বলে রেজিস্টারে লিখুন; রঙের ছবি নিন।
- রং মুছে যাওয়া, নতুন বা সন্দেহের নলকূপ আলাদা দাগ দিন।
পরের সপ্তাহে
- রঙহীন ও সন্দেহের নলকূপের তালিকাসহ আবেদন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে জমা দিন, রিসিভ কপি নিন।
- লাল নলকূপের পরিবারগুলোকে কাছের সবুজ নলকূপ বা নিরাপদ উৎস চিনিয়ে দিন।
এক মাস পরে
- আবেদনের অগ্রগতি জানতে অফিসে খোঁজ নিন।
- পরীক্ষার ফল এলে পরিবারগুলোকে জানান ও রেজিস্টার হালনাগাদ করুন।
দলে কে কী করবেন
দলপ্রধান ও আবেদনকারী১ জন
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে যোগাযোগ, আবেদন জমা ও খোঁজখবর।
তালিকাকারী (জোড়ায়)২ জন
বাড়ি বাড়ি নলকূপ দেখা, মালিকের সঙ্গে কথা, রেজিস্টার ও ছবি।
পরিবারের সঙ্গে আলাপ১ জন
লাল নলকূপের পরিবারকে শান্তভাবে বুঝিয়ে কাছের নিরাপদ উৎস দেখানো।
আগে কার সঙ্গে কথা বলবেন
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) অফিস
- কেন
- নলকূপের আর্সেনিক পরীক্ষা ও রং করা তাঁদের কাজ।
- কীভাবে
- উপসহকারী প্রকৌশলী বা দায়িত্বপ্রাপ্তের কাছে লিখিত আবেদন দিন, রিসিভ কপি নিন।
ইউনিয়ন পরিষদ ও ওয়ার্ড সদস্য
- কেন
- নিরাপদ পানির উৎস বসানোর তালিকা ও বরাদ্দে তাঁদের ভূমিকা আছে।
- কীভাবে
- তালিকার একটি কপি দিন, সভায় আলোচনার অনুরোধ করুন।
কমিউনিটি ক্লিনিক বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
- কেন
- কারও হাতে-পায়ে কালো দাগ বা শক্ত চামড়া থাকলে পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য।
- কীভাবে
- এমন কেউ থাকলে সেখানে যাওয়ার পরামর্শ দিন; নিজেরা রোগ নির্ণয় করবেন না।
কাজের দিনের সূচি
- ০৮:০০দল জড়ো; রেজিস্টার, কলম, ফোন চার্জ; পাড়া ভাগ।
- ০৮:৩০প্রথম পাড়ায় বাড়ি বাড়ি নলকূপ দেখা শুরু।
- ১০:৩০বিরতি; দলপ্রধান দুই দলের রেজিস্টার মিলিয়ে দেখেন।
- ১১:০০দ্বিতীয় পাড়া; মসজিদ, স্কুল, বাজারের নলকূপও বাদ নয়।
- ১৩:০০খাওয়া ও বিশ্রাম।
- ১৪:০০বাকি নলকূপ; লাল নলকূপের পরিবারগুলোর সঙ্গে আলাপ।
- ১৬:০০রেজিস্টার পরিষ্কার করে লেখা; রঙহীন ও সন্দেহের নলকূপের আলাদা তালিকা।
প্রমাণের ছবি কীভাবে তুলবেন
- কয়েকটি নলকূপের ছবি যেখানে রং (লাল/সবুজ) বা রং না থাকা স্পষ্ট দেখা যায়।
- রেজিস্টারের পাতার ছবি; চাইলে মালিকের নাম ঢেকে দিন।
- জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের সিল ও তারিখসহ রিসিভ কপির ছবি।
প্রথমবারের সাধারণ ভুল
- শুধু রাস্তার পাশের নলকূপ গোনা; বাড়ির ভেতরের ও নতুন নলকূপ বাদ পড়ে যায়।
- কত পরিবার পানি খায় তা না লেখা; অফিস অগ্রাধিকার ঠিক করতে পারে না।
- নিজেরা কিট দিয়ে পরীক্ষা করে ফল ঘোষণা করা।
- রিসিভ কপি না নিয়ে আবেদন জমা দেওয়া।
যা ভুল হতে পারে, তখন কী করবেন
মালিক রাগ করেন বা ভয় পান যে নলকূপ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বুঝিয়ে বলুন: আমরা শুধু তালিকা করি, কিছু বন্ধ করি না; লাল নলকূপের পানি ধোয়ামোছায় চলে, শুধু খাওয়া ও রান্নায় নয়।
কেউ বলেন ফুটালে বা ফিটকিরি দিলে আর্সেনিক যায়।
নরমভাবে ঠিক কথাটা বলুন: ফুটালে আর্সেনিক যায় না; নিরাপদ নলকূপ বা অন্য নিরাপদ উৎসের পানিই খেতে হবে।
আবেদন জমা দেওয়ার পর মাসের পর মাস সাড়া নেই।
রিসিভ কপি দেখিয়ে আবার খোঁজ নিন; দরকারে ৩৩৩-এ সরকারি সেবার অভিযোগ জানান।
দলের কেউ নিজের হাতে নলকূপে রং করে দেন।
কখনো নয়; রং করা শুধু পরীক্ষার পর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের কাজ। ভুল রং মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে।
পাঠানোর মতো বার্তা ও চিঠি
কপি করুন, [বন্ধনীর] জায়গাগুলো পূরণ করুন, পাঠিয়ে দিন।
স্বেচ্ছাসেবক ডাকার বার্তা (হোয়াটসঅ্যাপ/ফেসবুক)
[গ্রামের নাম]-এর প্রতিটি নলকূপের তালিকা করা হবে: কোনটি সবুজ, কোনটি লাল, কোনটির রং নেই। রং নেই এমন নলকূপ পরীক্ষার জন্য উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে আবেদন দেওয়া হবে। তারিখ: [তারিখ], সকাল ৮টা, জড়ো হওয়ার জায়গা: [জায়গা]। গ্রামের পথঘাট চেনেন এমন ৪ জন দরকার। নিজের নলকূপের তথ্য দিতে চাইলে [দলপ্রধানের নাম]-কে জানান। মনে রাখুন: ফুটালে আর্সেনিক যায় না। যোগ দিতে দেশের কাজ-এ কাজের পাতায় অনুরোধ দিন। কোনো টাকা তোলা হয় না।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে পরীক্ষার আবেদন
বরাবর, উপসহকারী প্রকৌশলী / উপজেলা প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, [উপজেলা], [জেলা] বিষয়: [গ্রামের নাম], [ইউনিয়ন]-এর নলকূপের আর্সেনিক পরীক্ষার আবেদন। জনাব, আমরা [দলের নাম], দেশের কাজ প্ল্যাটফর্মের স্বেচ্ছাসেবক দল। [তারিখ]-এ [গ্রামের নাম]-এর মোট [সংখ্যা]টি নলকূপ তালিকাভুক্ত করেছি। এর মধ্যে [সংখ্যা]টি সবুজ, [সংখ্যা]টি লাল এবং [সংখ্যা]টির রং মুছে গেছে বা কখনো পরীক্ষা হয়নি। সংযুক্ত তালিকার রংহীন ও সন্দেহজনক নলকূপগুলোর আর্সেনিক পরীক্ষা ও চিহ্নিত করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। তালিকায় প্রতিটি নলকূপের অবস্থান ও কত পরিবার পানি খায় তা উল্লেখ আছে। বিনীত, [নাম], দলপ্রধান, [দলের নাম] তারিখ: [তারিখ] সংযুক্তি: নলকূপের তালিকা ([সংখ্যা] পাতা)
কাজ শেষে
- রেজিস্টার ইউনিয়ন পরিষদ ও দলের কাছে একটি করে কপি রাখুন; নতুন নলকূপ বসলে যোগ করুন।
- পরীক্ষার ফল এলে প্রতিটি পরিবারকে জানান; লাল হলে কাছের নিরাপদ উৎস দেখান।
- বছরে একবার রং মুছে যাচ্ছে কি না দেখুন; মুছে গেলে আবার অফিসে জানান।
সাধারণ প্রশ্ন
নিজেরা পরীক্ষা করা যায়?
ফিল্ড কিট আছে, তবে নির্ভরযোগ্য ফলের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের পরীক্ষাই ভালো। আমাদের কাজ তালিকা ও আবেদন।
ফুটালে কি আর্সেনিক যায়?
না। ফুটালে আর্সেনিক যায় না; নিরাপদ নলকূপ বা অন্য উৎসের পানিই খেতে হবে।
পুরো সময় থাকতে না পারলে কি যোগ দেওয়া যাবে?
হ্যাঁ। যোগ দেওয়ার অনুরোধে লিখে দিন কোন ধাপে বা কোন সময়ে পারবেন। দলপ্রধান সেই ধাপটি আপনার নামে দেবেন।