মূল অংশে যান

এখন চলছে

কাজের তালিকা/শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী যত্ন

হাত দরকারমাঝারিজেলা

শিশুকে পানিতে ডোবা থেকে বাঁচানো, নেত্রকোণা

গ্রামের বাড়ির পাশের পুকুর-ডোবায় বেড়া, আর মা-বাবাদের নিয়ে উঠান বৈঠক: ছোট শিশুকে চোখে চোখে রাখা।

০/৬ জন
আনুমানিক ১০ ঘণ্টা
২৫
পয়েন্ট

কাজটি সম্পর্কে

হাওর ও পুকুরঘেরা নেত্রকোনার গ্রামে বাড়ির পাশেই পানি; ছোট শিশুদের ঝুঁকি বেশি। গ্রামের বাড়ির পাশের যে পুকুর বা ডোবায় বেড়া নেই, মালিকের অনুমতি নিয়ে সেখানে বাঁশের বেড়া ও গেট; আর উঠান বৈঠকে মা-বাবা ও দাদা-দাদিদের সঙ্গে ঠিক করা — সকালের ব্যস্ত সময়ে ছোট শিশুকে কে দেখবেন।

কেন জরুরি

বাংলাদেশে ছোট শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ পানিতে ডোবা, আর বেশিরভাগ ঘটে বাড়ির কয়েক মিটারের মধ্যে, দিনের বেলা, যখন বড়রা কাজে ব্যস্ত। একটি বেড়া আর একজনের নজর এই মৃত্যু ঠেকায়।

কাজ শেষে কী বদলাবে

অন্তত ১০টি পুকুরে বেড়া; প্রতিটি পরিবারের সকালের দেখাশোনার ব্যবস্থা ঠিক; কাছের শিশু-যত্নকেন্দ্র থাকলে তার খোঁজ।

কারা যোগ দিতে পারেন

বাঁশের কাজ জানা মানুষ খুব কাজের; উঠান বৈঠকে স্থানীয় কেউ থাকলে ভালো।

ধাপে ধাপে

০/৩ ধাপ শেষ

যেভাবে করবেন, যে ক্রমে।সব ধাপ মিলিয়ে প্রায় ৯ ঘণ্টা

  1. ১

    ঝুঁকির পুকুর চিহ্নিত করা

    বাড়ির ২০ মিটারের মধ্যে যে পুকুর বা ডোবায় বেড়া নেই, তার তালিকা।

    ১২০ মিনিট

    করা হয়নিদায়িত্বে:কেউ নেননি
  2. ২

    বাঁশের বেড়া

    মালিকের অনুমতি নিয়ে, অন্তত এক মিটার উঁচু, ফাঁক ছাড়া; সঙ্গে ঢুকতে না পারার মতো গেট।

    ৩০০ মিনিটবাঁশ, দড়ি

    করা হয়নিদায়িত্বে:কেউ নেননি
  3. ৩

    উঠান বৈঠক

    সকালের রান্নার সময়টাই ঝুঁকির: কে শিশুকে দেখবেন, ঠিক করা।

    ১২০ মিনিট

    করা হয়নিদায়িত্বে:কেউ নেননি

কী কী লাগবে

  • বাঁশ · প্রতি পুকুরে ১৫-২০টি
  • দড়ি · প্রয়োজনমতো

কাজ শেষ বলব কখন

  • অন্তত ১০টি পুকুর বা ডোবায় বেড়া
  • অন্তত ৩টি উঠান বৈঠক

যে প্রমাণ লাগবে

  • আগের ছবি
  • পরের ছবি

নিরাপত্তা

পানির ধারে কাজের সময় শিশুদের দূরে রাখুন। কেউ সাঁতার না জানলে পানিতে নামবেন না।

কাজের পূর্ণ নির্দেশিকা

যা যা লাগবে, কীভাবে করবেন

আগে কখনো এই কাজ করেননি? সমস্যা নেই। খরচ, সময়সূচি, কে কী করবেন, কার সঙ্গে কথা বলবেন, কাজের দিনের সূচি, ঝুঁকি আর পাঠানোর মতো বার্তা — সব এখানে।

আনুমানিক খরচ
৳২৬,০০০–৫৩,৬০০
দরকার
৬ জন
মোট সময়
১০ ঘণ্টা
বয়স
১৬ বছর বা বেশি

সেরা সময়মার্চ থেকে মে, বর্ষা আসার আগে; জুন-সেপ্টেম্বরে পুকুর-ডোবা ভরে যায়, তখন ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বাঁশের কাজ শুকনো মাটিতে সহজ।

অনুমতিপ্রতিটি পুকুর বা ডোবার মালিকের লিখিত অনুমতি; ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্যকে জানান।

খরচের হিসাব

দাম জেলা ও মৌসুমভেদে বদলায়; এটি ২০২৬ সালের আনুমানিক হিসাব। রসিদ রাখুন, প্রমাণে দিন।

কীদাম
বাঁশপ্রায় ১৮০টি (১০ পুকুরে)কোথায় পাবেন: গ্রামের বাঁশঝাড়ের মালিক বা বাঁশের আড়ত৳১২০–২৫০
নারকেলের দড়ি বা নাইলনের দড়ি১০ বান্ডিলকোথায় পাবেন: হাট বা হার্ডওয়্যারের দোকান৳১৫০–৩০০
জিআই তার ও পেরেকপ্রতি পুকুরে ১ সেটকোথায় পাবেন: হার্ডওয়্যারের দোকান৳১০০–২০০
গেটের কবজা ও উঁচুতে বসানো ছিটকিনি১০ সেটকোথায় পাবেন: হার্ডওয়্যারের দোকান৳৮০–১৫০
উঠান বৈঠকের চা-মুড়ি৩টি বৈঠককোথায় পাবেন: গ্রামের দোকান৳৩০০–৬০০
বৈঠকের ছবিসহ পোস্টার৩টিকোথায় পাবেন: ফটোকপি ও প্রিন্টের দোকান৳৫০–১০০
মোট (আনুমানিক)৳২৬,০০০–৫৩,৬০০

প্রস্তুতির সময়সূচি

  1. ৩ সপ্তাহ আগে

    • গ্রাম ঘুরে বাড়ির ২০ মিটারের মধ্যে বেড়াহীন পুকুর-ডোবার তালিকা করুন; কোন বাড়িতে ৫ বছরের কম শিশু আছে, লিখুন।
    • যেখানে ছোট শিশু বেশি, সেই পুকুরগুলো আগে রাখুন।
  2. ২ সপ্তাহ আগে

    • প্রতিটি পুকুরের মালিকের লিখিত অনুমতি নিন; বাঁশ দিতে পারবেন কি না জিজ্ঞেস করুন।
    • উঠান বৈঠকের তিনটি বাড়ি ও সময় ঠিক করুন; মা, বাবা, দাদা-দাদি সবাইকে ডাকুন।
  3. ৫ দিন আগে

    • বাঁশ, দড়ি, তার, কবজা জোগাড় করুন; বাঁশের কাজ জানা মানুষ ঠিক করুন।
    • দা, করাত, খন্তা ধার করে রাখুন।
  4. কাজের দিনগুলো

    • প্রতিদিন ৩-৪টি পুকুরে বেড়া; অন্তত এক মিটার উঁচু, ফাঁক ছাড়া, গেটের ছিটকিনি শিশুর নাগালের বাইরে।
    • বিকেলে বা সন্ধ্যায় উঠান বৈঠক।
  5. এক মাস পরে

    • সব বেড়া ঘুরে দেখুন: ভাঙা, ফাঁক, গেট খোলা থাকে কি না।
    • মালিককে বছরে একবার বাঁশ বদলের কথা মনে করিয়ে দিন।

দলে কে কী করবেন

  • দলপ্রধান ও তালিকাকারী১ জন

    পুকুরের তালিকা, মালিকের অনুমতি, কাজের ক্রম ঠিক করা।

  • বেড়া দল৩ জন

    বাঁশ কাটা, পোঁতা, বাঁধা, গেট বসানো; পানির ধারে নিরাপদে কাজ।

  • উঠান বৈঠকের আলোচক১ জন

    স্থানীয় একজন, মা-বাবা ও দাদা-দাদিদের সঙ্গে সকালের দেখাশোনার ব্যবস্থা ঠিক করা।

  • শিশুদের দূরে রাখা১ জন

    কাজের সময় কৌতূহলী শিশুদের পানি থেকে দূরে রাখা।

আগে কার সঙ্গে কথা বলবেন

  • পুকুর ও ডোবার মালিক

    কেন
    জমি তাঁদের; বেড়া টিকবে তাঁদের দেখভালে।
    কীভাবে
    সরাসরি দেখা করে লিখিত অনুমতি নিন; বাঁশ বা শ্রম দিতে পারলে নিন।
  • ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য

    কেন
    মালিক রাজি না হলে বা খাস পুকুর হলে তাঁর সহায়তা লাগে।
    কীভাবে
    তালিকা দেখিয়ে জানিয়ে রাখুন।
  • কমিউনিটি ক্লিনিক বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

    কেন
    উঠান বৈঠকে ডোবার পর কী করবেন, তা সঠিক বলতে।
    কীভাবে
    স্বাস্থ্যকর্মীকে একটি বৈঠকে আসার অনুরোধ করুন।

কাজের দিনের সূচি

  1. ০৭:৩০দল জড়ো; বাঁশ, দড়ি, যন্ত্র ভাগ; কে শিশুদের দূরে রাখবেন, ঠিক।
  2. ০৮:০০প্রথম পুকুর: আগের ছবি, খুঁটি পোঁতা, বাঁধা।
  3. ১০:০০দ্বিতীয় পুকুর; প্রথমটির গেট বসানো।
  4. ১২:৩০খাওয়া ও বিশ্রাম।
  5. ১৩:৩০তৃতীয় পুকুর; প্রতিটি বেড়া হাতে ঠেলে দেখা শক্ত কি না।
  6. ১৫:৩০পরের ছবি তোলা; মালিককে গেট বন্ধ রাখার কথা বলা।
  7. ১৬:৩০উঠান বৈঠক: সকালের রান্নার সময় কে শিশুকে দেখবেন; ডুবে গেলে কী করবেন।

প্রমাণের ছবি কীভাবে তুলবেন

  • প্রতিটি পুকুরের একই কোণ থেকে আগে ও পরে ছবি, পাশে বাড়ি যেন দেখা যায়।
  • বন্ধ গেট ও উঁচু ছিটকিনির কাছের ছবি।
  • উঠান বৈঠকের ছবি পেছন থেকে বা দূর থেকে; শিশুদের মুখ নয়।
  • পুকুরের তালিকা ও মালিকদের অনুমতিপত্রের ছবি।

প্রথমবারের সাধারণ ভুল

  • বেড়ায় নিচে বা মাঝে বড় ফাঁক রাখা; হামাগুড়ি দেওয়া শিশু ফাঁক দিয়ে ঢুকে যায়।
  • শুধু বেড়া করে উঠান বৈঠক বাদ দেওয়া; নজর রাখার ব্যবস্থা ছাড়া ঝুঁকি থেকে যায়।
  • গেটের ছিটকিনি নিচে বসানো, যা শিশু খুলতে পারে।
  • মালিকের অনুমতি ছাড়া কাজ শুরু করা।

যা ভুল হতে পারে, তখন কী করবেন

  • কাজের সময় কেউ পানিতে পড়ে যান।

    সাঁতার না জানলে পানির ধারে নয়; তীরে একটি লম্বা বাঁশ বা দড়ি রাখুন, পানিতে না নেমে বাড়িয়ে টেনে তুলুন।

  • কোনো শিশু পানিতে ডুবে গেছে।

    তুলে আনুন, সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯; শ্বাস না থাকলে প্রশিক্ষিত কেউ সিপিআর দেবেন। শিশুকে উল্টো করে ঘোরাবেন না, পেট চেপে পানি বের করার চেষ্টা করবেন না। ঠিক মনে হলেও হাসপাতালে নিন।

  • দা বা করাতে হাত কাটা।

    যন্ত্র শুধু অভিজ্ঞরা ধরবেন; কাটলে পরিষ্কার কাপড়ে চেপে ধরুন, গভীর হলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।

  • মালিক পরে বেড়া খুলে ফেলেন বা গেট খোলা রাখেন।

    গেট এমন জায়গায় রাখুন যাতে পানি আনা-নেওয়ায় সুবিধা হয়; মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে নকশা ঠিক করুন।

পাঠানোর মতো বার্তা ও চিঠি

কপি করুন, [বন্ধনীর] জায়গাগুলো পূরণ করুন, পাঠিয়ে দিন।

গ্রামের জন্য বার্তা (হোয়াটসঅ্যাপ/ফেসবুক)

[গ্রামের নাম]-এ বাড়ির পাশের বেড়াহীন পুকুর-ডোবায় বাঁশের বেড়া ও গেট দেওয়া হবে, যাতে ছোট শিশুরা পানিতে না পড়ে। তারিখ: [তারিখ থেকে তারিখ], সকাল ৭:৩০, জড়ো হওয়ার জায়গা: [জায়গা]। বাঁশের কাজ জানা মানুষ খুব দরকার; দা বা করাত থাকলে আনুন। বাঁশ দিতে পারলে [দলপ্রধানের নাম]-কে জানান। [তারিখ] বিকেল ৪:৩০-এ [বাড়ির নাম]-এর উঠানে মা-বাবা ও দাদা-দাদিদের নিয়ে বৈঠক। যোগ দিতে দেশের কাজ-এ কাজের পাতায় অনুরোধ দিন। টাকা তোলা হয় না।

পুকুর মালিকের কাছে অনুমতিপত্র

বরাবর, [মালিকের নাম], [গ্রাম], [ইউনিয়ন] বিষয়: পুকুর/ডোবার পাড়ে শিশু-নিরাপত্তা বেড়া দেওয়ার অনুমতি প্রসঙ্গে। জনাব, আমরা [দলের নাম], দেশের কাজ প্ল্যাটফর্মের স্বেচ্ছাসেবক দল। আপনার [পুকুর/ডোবা], যা [বাড়ির নাম]-এর কাছে, তার চারপাশে [তারিখ]-এ অন্তত এক মিটার উঁচু বাঁশের বেড়া ও একটি গেট দিতে চাই, যাতে ছোট শিশুরা পানিতে না পড়ে। গেট এমন জায়গায় দেওয়া হবে যা আপনার সুবিধামতো। পুকুরের মালিকানা বা ব্যবহারে কোনো পরিবর্তন হবে না। আমি এই কাজে সম্মতি দিলাম। মালিকের সই: ____________ তারিখ: [তারিখ] দলের পক্ষে: [নাম], দলপ্রধান

কাজ শেষে

  • মাসে একবার একজন বেড়া ঘুরে দেখবেন, ভাঙা বা ফাঁক থাকলে সারাবেন।
  • বর্ষার আগে প্রতিবছর বাঁশ বদল বা মেরামতের কথা মালিকদের মনে করিয়ে দিন।
  • কাছে শিশু-যত্নকেন্দ্র বা দিবাযত্ন থাকলে পরিবারগুলোকে খোঁজ দিন।

সাধারণ প্রশ্ন

বেড়ার বাঁশ কে দেবে?

অনেক সময় পুকুরের মালিক বা গ্রামের মানুষ দেন; না হলে কাজের পাতায় প্রতিশ্রুতি নিন।

পুরো সময় থাকতে না পারলে কি যোগ দেওয়া যাবে?

হ্যাঁ। যোগ দেওয়ার অনুরোধে লিখে দিন কোন ধাপে বা কোন সময়ে পারবেন। দলপ্রধান সেই ধাপটি আপনার নামে দেবেন।

মানচিত্র

লগইন, ভাষা আর অ্যাডমিন সাইডবার ছাড়া শুধু Google Analytics-এর কুকি আছে, যা গোনে কোন পাতা পড়া হচ্ছে আর পাঠকেরা কোথা থেকে আসছেন। কোনো বিজ্ঞাপন নেই, আপনার তথ্য আমরা কখনো বিক্রি করি না। বিস্তারিত