মূল অংশে যান

এখন চলছে

কাজের তালিকা/তথ্য ও যোগাযোগ

হাত দরকারসহজজেলা

অনলাইন সরকারি সেবায় সাহায্যের ডেস্ক, মাগুরা

হাটের দিনে বা ইউনিয়ন পরিষদের পাশে একটি টেবিল: জন্মনিবন্ধন, ভাতা, শিক্ষাবৃত্তি, চাকরির আবেদনের মতো অনলাইন সেবা কীভাবে পাবেন — হাতে-কলমে দেখানো।

০/৩ জন
আনুমানিক ৫ ঘণ্টা
১০
পয়েন্ট

কাজটি সম্পর্কে

মাগুরার গ্রামে অনলাইন সেবার জন্য অনেককেই দালালের ওপর নির্ভর করতে হয়। হাটের দিনে বা ইউনিয়ন পরিষদের পাশে একটি টেবিলে বসে মানুষকে তাঁদের নিজের ফোনে দেখানো — জন্মনিবন্ধন যাচাই, ভাতা ও শিক্ষাবৃত্তির আবেদন, চাকরির আবেদন, সরকারি তথ্য ৩৩৩-এ ফোন — প্রতিটি সেবার জন্য এক পাতার সহজ নির্দেশিকাসহ।

কেন জরুরি

অনেক সরকারি সেবা এখন অনলাইনে, কিন্তু যাঁরা ইন্টারনেটে অভ্যস্ত নন তাঁরা দালালকে টাকা দিয়ে কাজ করান, অনেক সময় প্রতারিতও হন। একবার নিজে হাতে করে দেখলে মানুষ আত্মবিশ্বাস পান।

কাজ শেষে কী বদলাবে

অন্তত ৪০ জনকে সাহায্য; ছাপানো নির্দেশিকা ইউনিয়ন পরিষদে রাখা; মানুষ জানেন কোন কাজে দালাল লাগে না।

কারা যোগ দিতে পারেন

স্মার্টফোন ও অনলাইন সেবা ভালো বোঝেন এমন ধৈর্যশীল যে কেউ।

ধাপে ধাপে

০/৩ ধাপ শেষ

যেভাবে করবেন, যে ক্রমে।সব ধাপ মিলিয়ে প্রায় ৬ ঘণ্টা

  1. ১

    জায়গা ও দিন

    ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার বা পরিষদের অনুমতি নিয়ে, হাটের দিন।

    ৬০ মিনিট

    করা হয়নিদায়িত্বে:কেউ নেননি
  2. ২

    সহজ নির্দেশিকা

    প্রতিটি সেবার জন্য এক পাতা: কোন ওয়েবসাইট, কী কাগজ লাগে, খরচ কত।

    ১২০ মিনিটপ্রিন্ট

    করা হয়নিদায়িত্বে:কেউ নেননি
  3. ৩

    ডেস্কে বসা

    মানুষের নিজের ফোনে দেখানো; কারো পাসওয়ার্ড বা ওটিপি নিজে নেবেন না।

    ১৮০ মিনিট

    করা হয়নিদায়িত্বে:কেউ নেননি

কী কী লাগবে

  • ছাপানো নির্দেশিকা · ২০০ পাতা

কাজ শেষ বলব কখন

  • অন্তত ৪০ জনকে সাহায্য, তালিকাসহ (নাম নয়, সেবার ধরন)

যে প্রমাণ লাগবে

  • ছবি
  • কাগজপত্র

নিরাপত্তা

কারো পাসওয়ার্ড, পিন বা ওটিপি জানবেন না, লিখবেন না। টাকা নেবেন না।

কাজের পূর্ণ নির্দেশিকা

যা যা লাগবে, কীভাবে করবেন

আগে কখনো এই কাজ করেননি? সমস্যা নেই। খরচ, সময়সূচি, কে কী করবেন, কার সঙ্গে কথা বলবেন, কাজের দিনের সূচি, ঝুঁকি আর পাঠানোর মতো বার্তা — সব এখানে।

আনুমানিক খরচ
৳১,৪০০–২,৫০০
দরকার
৩ জন
মোট সময়
৫ ঘণ্টা
বয়স
১৬ বছর বা বেশি

সেরা সময়সারা বছর; সাপ্তাহিক হাটের দিনে সবচেয়ে বেশি মানুষ আসে। ভাতা, শিক্ষাবৃত্তি বা ভর্তির আবেদনের সময়ের আগে আগে করলে সবচেয়ে কাজে লাগে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা।

অনুমতিইউনিয়ন পরিষদের সচিব বা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তার সম্মতি নিন; পরিষদ চত্বরে বসলে লিখিত অনুমতি নিন। হাটে বসলে হাট কমিটিকে জানান।

খরচের হিসাব

দাম জেলা ও মৌসুমভেদে বদলায়; এটি ২০২৬ সালের আনুমানিক হিসাব। রসিদ রাখুন, প্রমাণে দিন।

কীদাম
ছাপানো এক পাতার নির্দেশিকা২০০ পাতাকোথায় পাবেন: ফটোকপির দোকান৳২–৩
ব্যানার: “বিনা মূল্যে অনলাইন সেবার সাহায্য”১টিকোথায় পাবেন: ফ্লেক্স প্রিন্টের দোকান৳৩০০–৬০০
মাল্টিপ্লাগ / এক্সটেনশন বোর্ড (ফোন চার্জের জন্য)১টিকোথায় পাবেন: ইলেকট্রিক দোকান৳৩০০–৬০০
মোবাইল ডেটা (দেখানোর জন্য)৩ জনকোথায় পাবেন: মোবাইল রিচার্জের দোকান৳১০০–২০০
হিসাবের খাতা ও কলম১ সেটকোথায় পাবেন: স্টেশনারি দোকান৳৬০–১২০
মোট (আনুমানিক)৳১,৪০০–২,৫০০

প্রস্তুতির সময়সূচি

  1. ১০ দিন আগে

    • ইউনিয়ন পরিষদ বা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে গিয়ে দিন ও জায়গা ঠিক করুন।
    • এলাকায় কোন সেবার প্রশ্ন বেশি, উদ্যোক্তার কাছে জেনে নিন।
  2. ৭ দিন আগে

    • প্রতিটি সেবার জন্য এক পাতা লিখুন: কোথায় আবেদন, কী কাগজ লাগে, সরকারি ফি কত, কোথায় দালাল লাগে না।
    • ওয়েবসাইটের ঠিকানা ও ফি সরকারি উৎস বা ডিজিটাল সেন্টার থেকে মিলিয়ে নিন; অনুমানে কিছু লিখবেন না।
  3. ৩ দিন আগে

    • নির্দেশিকা ছাপান; ব্যানার বানান।
    • দলের সঙ্গে নিয়ম ঝালিয়ে নিন: পাসওয়ার্ড, পিন, ওটিপি কখনো নয়; টাকা কখনো নয়।
    • হাটে ও মসজিদে মাইকে বা মুখে খবর দিন।
  4. কাজের দিন

    • মানুষের নিজের ফোনে, তাঁর নিজের হাতে করিয়ে দেখান।
    • প্রতিজন সাহায্য পেলে খাতায় শুধু সেবার ধরন লিখুন, নাম নয়।
  5. পরের সপ্তাহে

    • বাকি নির্দেশিকা ইউনিয়ন পরিষদ ও ডিজিটাল সেন্টারে রেখে আসুন।
    • সেবা অনুযায়ী মোট সংখ্যা যোগ করে হালনাগাদ দিন।

দলে কে কী করবেন

  • দলপ্রধান ও অভ্যর্থনা১ জন

    মানুষকে বসানো, কী সেবা চান জেনে ঠিক জনের কাছে পাঠানো, খাতায় দাগ।

  • আবেদন সাহায্যকারী১ জন

    মানুষের নিজের ফোনে ধাপে ধাপে আবেদন বা যাচাই দেখানো; পাসওয়ার্ড-ওটিপি তিনি নিজে টাইপ করবেন।

  • তথ্য ও নির্দেশিকা সাহায্যকারী১ জন

    সঠিক নির্দেশিকা হাতে দেওয়া, ৩৩৩-এ ফোন করে তথ্য নেওয়া শেখানো, ডিজিটাল সেন্টারে পাঠানো।

আগে কার সঙ্গে কথা বলবেন

  • ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা

    কেন
    এলাকার মানুষের প্রশ্ন জানেন; যে কাজ ডেস্কে হয় না তা তাঁর কাছে সরকারি ফিতে করানো যায়।
    কীভাবে
    আগে দেখা করে বুঝিয়ে বলুন এটি তাঁর কাজের প্রতিযোগী নয়, বরং মানুষকে সঠিক জায়গায় পাঠানো।
  • ইউনিয়ন পরিষদের সচিব

    কেন
    চত্বর ব্যবহারের অনুমতি; জন্মনিবন্ধন ও ভাতার মতো সেবার সঠিক তথ্য।
    কীভাবে
    লিখিত আবেদন দিন, নির্দেশিকার খসড়া দেখিয়ে নিন।
  • হাট কমিটি

    কেন
    হাটের দিনে টেবিল বসানোর জায়গা।
    কীভাবে
    আগের হাটে গিয়ে জানিয়ে জায়গা ঠিক করুন।

কাজের দিনের সূচি

  1. ০৯:৩০টেবিল-চেয়ার, ব্যানার, নির্দেশিকা সাজানো; চার্জের ব্যবস্থা।
  2. ১০:০০ডেস্ক খোলা; প্রথমে প্রশ্ন শুনে কোন সেবা তা ঠিক করা।
  3. ১১:০০সবচেয়ে ব্যস্ত সময়; দরকারে লাইন ও টোকেন।
  4. ১২:৩০পালা করে বিরতি; একজন সবসময় টেবিলে।
  5. ১৩:৩০শেষ আধা ঘণ্টা; যাঁদের কাজ ডিজিটাল সেন্টারে লাগবে তাঁদের সেখানে পাঠানো।
  6. ১৪:০০ডেস্ক বন্ধ; খাতার হিসাব মিলানো, ছবি, বাকি নির্দেশিকা পরিষদে রাখা।

প্রমাণের ছবি কীভাবে তুলবেন

  • ডেস্কের ছবি: ব্যানার ও টেবিল দেখা যায়; মানুষের মুখ বা ফোনের পর্দা নয়।
  • সেবার ধরন অনুযায়ী হিসাবের খাতার ছবি (নাম ছাড়া; অন্তত ৪০ জন)।
  • ছাপানো নির্দেশিকার একটি কপি বা ছবি।

প্রথমবারের সাধারণ ভুল

  • মানুষের হাত থেকে ফোন নিয়ে নিজেই সব করে দেওয়া; পরের বার তিনি আবার দালালের কাছে যান।
  • ভুল বা নকল ওয়েবসাইট দেখানো; শুধু সরকারি ঠিকানা ব্যবহার করুন।
  • খাতায় মানুষের নাম ও নম্বর লিখে রাখা।
  • উদ্যোক্তাকে না জানিয়ে তাঁর সেন্টারের পাশে বসা।

যা ভুল হতে পারে, তখন কী করবেন

  • কেউ পাসওয়ার্ড, পিন বা ওটিপি বলে দিতে চান

    সঙ্গে সঙ্গে থামিয়ে দিন: “এটা শুধু আপনার; কাউকে বলবেন না, আমাদেরও না।” তাঁকে নিজে টাইপ করতে দিন, আর নিজে পর্দা থেকে চোখ সরিয়ে রাখুন।

  • কেউ টাকা দিতে চান বা দলের কেউ টাকা নেন

    বিনয়ের সঙ্গে না বলুন; দলে আগেই বলে দিন টাকা নিলে কাজ বাতিল। সরকারি ফি থাকলে তা শুধু সরকারি মাধ্যমে দিতে বলুন।

  • ভুল তথ্য দেওয়া

    না জানলে “জানি না” বলুন, ৩৩৩ বা ডিজিটাল সেন্টারে পাঠান; অনুমানে কিছু বলবেন না।

  • কারো জাতীয় পরিচয়পত্র বা কাগজের ছবি দলের ফোনে থেকে যাওয়া

    কারো কাগজের ছবি নিজের ফোনে তুলবেন না, রাখবেন না; সব কাজ তাঁর নিজের ফোনে।

পাঠানোর মতো বার্তা ও চিঠি

কপি করুন, [বন্ধনীর] জায়গাগুলো পূরণ করুন, পাঠিয়ে দিন।

হোয়াটসঅ্যাপ / ফেসবুক / মাইকের ঘোষণা

বিনা মূল্যে অনলাইন সেবার সাহায্য! কবে: [তারিখ], হাটের দিন, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা কোথায়: [ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর/হাটের জায়গা] জন্মনিবন্ধন যাচাই, ভাতা ও শিক্ষাবৃত্তির আবেদন, চাকরির আবেদন, সরকারি তথ্যের জন্য ৩৩৩ — নিজের ফোনে নিজে করতে শিখুন। সঙ্গে আনুন: নিজের স্মার্টফোন (চার্জসহ) ও দরকারি কাগজ। মনে রাখুন: আমরা কোনো টাকা নিই না, আর কারো পাসওয়ার্ড, পিন বা ওটিপি জানতে চাই না। কেউ চাইলে দেবেন না। স্বেচ্ছাসেবক হতে দেশের কাজ-এ এই কাজের পাতায় যোগ দিন।

ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের কাছে আবেদন

তারিখ: [তারিখ] বরাবর সচিব [ইউনিয়নের নাম] ইউনিয়ন পরিষদ, [উপজেলা], [জেলা] অনুলিপি: উদ্যোক্তা, [ইউনিয়নের নাম] ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার বিষয়: পরিষদ চত্বরে বিনা মূল্যে অনলাইন সেবা সহায়তা ডেস্ক বসানোর অনুমতি প্রসঙ্গে। জনাব, আমরা [দলের নাম], দেশের কাজ প্ল্যাটফর্মের স্বেচ্ছাসেবক দল। আগামী [তারিখ] সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পরিষদ চত্বরে একটি টেবিলে বসে মানুষকে তাঁদের নিজের ফোনে জন্মনিবন্ধন যাচাই, ভাতা ও শিক্ষাবৃত্তির আবেদনের মতো অনলাইন সেবা কীভাবে পাওয়া যায় তা দেখাতে চাই। আমরা কারো কাছ থেকে কোনো টাকা নেব না, কারো পাসওয়ার্ড, পিন বা ওটিপি জানব না, কারো কাগজের ছবি রাখব না। যে কাজ ডিজিটাল সেন্টারে করা দরকার, সেখানে পাঠাব। আপনার সদয় অনুমতি প্রার্থনা করছি। বিনীত [নাম], দলপ্রধান [দলের নাম]

কাজ শেষে

  • নির্দেশিকা পরিষদ ও ডিজিটাল সেন্টারে রেখে আসুন; কোনো তথ্য বদলালে হালনাগাদ করে আবার ছাপান।
  • মাসে একটি হাটের দিনে ডেস্ক নিয়মিত করুন; মানুষ দিনটি মনে রাখবেন।
  • সবচেয়ে বেশি আসা প্রশ্নগুলো লিখে রাখুন; পরের নির্দেশিকা সেগুলো দিয়েই শুরু হবে।

সাধারণ প্রশ্ন

টাকা নিয়ে কাজ করে দিতে পারি?

না। এটি স্বেচ্ছাসেবা; টাকা নিলে কাজটি বাতিল হবে।

পুরো সময় থাকতে না পারলে কি যোগ দেওয়া যাবে?

হ্যাঁ। যোগ দেওয়ার অনুরোধে লিখে দিন কোন ধাপে বা কোন সময়ে পারবেন। দলপ্রধান সেই ধাপটি আপনার নামে দেবেন।

মানচিত্র

লগইন, ভাষা আর অ্যাডমিন সাইডবার ছাড়া শুধু Google Analytics-এর কুকি আছে, যা গোনে কোন পাতা পড়া হচ্ছে আর পাঠকেরা কোথা থেকে আসছেন। কোনো বিজ্ঞাপন নেই, আপনার তথ্য আমরা কখনো বিক্রি করি না। বিস্তারিত