কাজের তালিকা/এলাকা সংযোগ ও সহায়তা
দুর্যোগে এলাকা-সংযোগ
বন্যা বা ঝড়ে একটি এলাকা থেকে আরেক এলাকায় শুকনো খাবার, পানি, ওষুধ।
- ০/১২ জন
- আনুমানিক ৪০ ঘণ্টা
- ৫০
- পয়েন্ট

কাজটি সম্পর্কে
পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর জেলা মাদারীপুরে বর্ষায় বন্যা আর নদীভাঙনের ঝুঁকি থাকে। বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলাকার সঙ্গে আরেকটি এলাকার সংযোগ: স্থানীয় কারো কাছ থেকে প্রকৃত চাহিদার তালিকা নেওয়া, শুকনো খাবার, খাবার পানি, ওষুধ ও স্যালাইন সংগ্রহ ও প্যাকেট করা, তারপর তালিকা ধরে স্বাক্ষর নিয়ে বিতরণ।
কেন জরুরি
দুর্যোগের পর সাহায্য প্রায়ই সেখানেই বেশি যায় যেখানে রাস্তা ভালো, আর দূরের গ্রাম বাদ পড়ে। তালিকা ধরে, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মিলে দিলে সাহায্য ঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায় আর কিছু নষ্ট হয় না।
কাজ শেষে কী বদলাবে
তালিকার প্রতিটি পরিবার পেয়েছে, স্বাক্ষরসহ; খরচের রসিদ প্রকাশ্য; স্থানীয় একজন সমন্বয়কের নম্বর ভবিষ্যতের জন্য রাখা।
কারা যোগ দিতে পারেন
১৮ বছরের বেশি। প্যাকিংয়ে যে কেউ; বিতরণে শারীরিকভাবে সক্ষম, পানিতে চলাচলে অভ্যস্ত মানুষ।
ধাপে ধাপে
০/৩ ধাপ শেষযেভাবে করবেন, যে ক্রমে।সব ধাপ মিলিয়ে প্রায় ২২ ঘণ্টা
- ১
চাহিদার তালিকা
ওই এলাকা সমন্বয়কের কাছ থেকে।
১২০ মিনিট
করা হয়নিদায়িত্বে:কেউ নেননি - ২
সংগ্রহ ও প্যাকেট
৬০০ মিনিটবস্তা, পলিথিন
করা হয়নিদায়িত্বে:কেউ নেননি - ৩
পৌঁছানো ও বিতরণ
তালিকা ধরে, স্বাক্ষর নিয়ে।
৬০০ মিনিটট্রাক
করা হয়নিদায়িত্বে:কেউ নেননি
কী কী লাগবে
- পরিবহন · ১টি ট্রাক
কাজ শেষ বলব কখন
- তালিকার প্রতিটি পরিবার পেয়েছে, স্বাক্ষরসহ
যে প্রমাণ লাগবে
- ছবি
- স্বাক্ষর
- রসিদ
নিরাপত্তা
পানি বাড়ার সময় নৌকা ছাড়া নয়।
কাজের পূর্ণ নির্দেশিকা
যা যা লাগবে, কীভাবে করবেন
আগে কখনো এই কাজ করেননি? সমস্যা নেই। খরচ, সময়সূচি, কে কী করবেন, কার সঙ্গে কথা বলবেন, কাজের দিনের সূচি, ঝুঁকি আর পাঠানোর মতো বার্তা — সব এখানে।
- আনুমানিক খরচ
- ৳৪২,০০০–৬৭,০০০
- দরকার
- ১২ জন
- মোট সময়
- ৪০ ঘণ্টা
- বয়স
- ১৮ বছর বা বেশি
সেরা সময়বর্ষা (জুন–সেপ্টেম্বর) বন্যার সময় আর এপ্রিল–মে ও অক্টোবর–নভেম্বর ঘূর্ণিঝড়ের পর। পানি নামা শুরু হলে ও সংকেত নামানোর পরই যাওয়া নিরাপদ।
অনুমতিআলাদা অনুমতি লাগে না, তবে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) দপ্তরকে জানিয়ে যান, যাতে একই পরিবার দুবার না পায় আর বাদও না পড়ে।
খরচের হিসাব
দাম জেলা ও মৌসুমভেদে বদলায়; এটি ২০২৬ সালের আনুমানিক হিসাব। রসিদ রাখুন, প্রমাণে দিন।
| কী | কতটা | দাম |
|---|---|---|
| শুকনো খাবারের প্যাকেট (চিড়া ২ কেজি, গুড় ১ কেজি, মুড়ি, বিস্কুট)৫০ পরিবারকোথায় পাবেন: পাইকারি মুদি দোকান | ৫০ পরিবার | ৳৪৫০–৬৫০ |
| খাবার পানি, ৫ লিটারের বোতল৫০টিকোথায় পাবেন: পাইকারি দোকান বা পরিবেশক | ৫০টি | ৳৯০–১৩০ |
| খাবার স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট৫০ পরিবারকোথায় পাবেন: ফার্মেসি | ৫০ পরিবার | ৳৬০–১০০ |
| সাধারণ ওষুধ ও প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স (প্যারাসিটামল, ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিসেপটিক)১ সেটকোথায় পাবেন: ফার্মেসি | ১ সেট | ৳১,৫০০–৩,০০০ |
| বস্তা ও মোটা পলিথিন (প্যাকেট ভিজবে না)৫০ সেটকোথায় পাবেন: বস্তা-পলিথিনের দোকান | ৫০ সেট | ৳২৫–৪০ |
| ট্রাক ভাড়া, এক দিন১টিকোথায় পাবেন: ট্রাক স্ট্যান্ড | ১টি | ৳৬,০০০–১২,০০০ |
| ইঞ্জিন নৌকা ভাড়া, এক দিন১টিকোথায় পাবেন: স্থানীয় ঘাট | ১টি | ৳৩,০০০–৬,০০০ |
| মোট (আনুমানিক) | ৳৪২,০০০–৬৭,০০০ | |
প্রস্তুতির সময়সূচি
৭ দিন আগে (বা খবর পাওয়ার দিন)
- ওই এলাকার একজন স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে পরিবারের সংখ্যা, সবচেয়ে জরুরি জিনিস আর যাওয়ার পথ জেনে নিন।
- কাজের পাতায় প্রতিশ্রুতি নিন; টাকা সরাসরি দলের কাছে আসবে, সাইটে নয়।
- ইউনিয়ন পরিষদকে জানান কোন ওয়ার্ডে যাচ্ছেন।
৩ দিন আগে
- নাম, ঠিকানা ও সদস্যসংখ্যাসহ পরিবারের তালিকা হাতে নিন; একই তালিকা স্থানীয় সমন্বয়কের কাছেও থাকুক।
- কেনাকাটা করুন, প্রতিটি রসিদ রাখুন।
- ট্রাক ও নৌকা ঠিক করুন; নৌকায় লাইফ জ্যাকেট আছে কি না জেনে নিন।
আগের দিন
- সব প্যাকেট একই রকম করে বাঁধুন, পলিথিনে মুড়ে বস্তায় ভরুন।
- ১০৯০ নম্বরে সতর্ক সংকেত ও আবহাওয়া শুনে নিন।
- স্বাক্ষর-তালিকা ছাপান, কলম ও কালির প্যাড নিন।
কাজের দিন
- ভোরে রওনা দিন, যাতে দিনের আলোয় ফেরা যায়।
- তালিকা ধরে এক পরিবার এক প্যাকেট; প্রত্যেকের স্বাক্ষর বা টিপসই নিন।
পরের সপ্তাহে
- সব রসিদ ও স্বাক্ষর-তালিকা কাজের পাতায় দিন।
- স্থানীয় সমন্বয়কের কাছে জানুন কেউ বাদ পড়েছে কি না।
দলে কে কী করবেন
দলপ্রধান ও তালিকা-রক্ষক১ জন
তালিকা মিলিয়ে বিতরণ চালান, স্বাক্ষর নিন।
কেনাকাটা ও হিসাব২ জন
দর যাচাই, কেনা, প্রতিটি রসিদ রাখা।
প্যাকিং দল৫ জন
একই রকম প্যাকেট বানানো, গোনা, বস্তায় ভরা।
বিতরণ ও নৌকা দল৩ জন
পানিতে চলতে অভ্যস্ত; প্যাকেট বয়ে নেওয়া, লাইন রাখা।
ছবি ও প্রমাণ১ জন
ছবি তোলা, স্বাক্ষর-তালিকা ও রসিদ গুছিয়ে রাখা।
আগে কার সঙ্গে কথা বলবেন
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয় ও ওয়ার্ড সদস্য
- কেন
- কোন পরিবার সরকারি ত্রাণ পেয়েছে আর কারা বাদ, তারা জানে।
- কীভাবে
- কার্যালয়ে গিয়ে বা ফোনে জানান কোন গ্রামে, কত পরিবার, কবে যাচ্ছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) দপ্তর
- কেন
- উপজেলার ত্রাণ সমন্বয় এখানে; কোথায় ঘাটতি তা বলতে পারে।
- কীভাবে
- একটি ছোট চিঠি দিন, কপি রাখুন।
এলাকার সিপিপি বা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল
- কেন
- পথ, নৌকা আর নিরাপদ জায়গা চেনে।
- কীভাবে
- স্থানীয় সমন্বয়কের মাধ্যমে আগে থেকে যোগাযোগ করুন।
কাজের দিনের সূচি
- ০৬:০০গুদামে জড়ো হওয়া, প্যাকেট গোনা, ট্রাকে তোলা।
- ০৭:০০রওনা; দলপ্রধান সমন্বয়ককে ফোনে জানান।
- ০৯:৩০ঘাটে পৌঁছে নৌকায় তোলা; সবাই লাইফ জ্যাকেট পরুন।
- ১১:০০গ্রামে পৌঁছে উঁচু, শুকনো জায়গায় বিতরণের টেবিল বসান।
- ১১:৩০তালিকা ধরে নাম ডেকে বিতরণ; আগে প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অন্তঃসত্ত্বা নারী।
- ১৪:০০যারা আসতে পারেনি, তাদের বাড়িতে প্যাকেট পৌঁছান।
- ১৫:০০বাকি প্যাকেট গুনে সমন্বয়কের কাছে লিখিতভাবে দিন; ফেরার পথ ধরুন।
- ১৮:০০ফিরে সবাই নিরাপদ কি না নিশ্চিত করুন; দিনের হিসাব লিখুন।
প্রমাণের ছবি কীভাবে তুলবেন
- স্বাক্ষর-তালিকার প্রতিটি পাতার পরিষ্কার ছবি দিন।
- প্রতিটি কেনাকাটার রসিদের ছবি, যোগফলসহ একটি হিসাব।
- প্যাকেটের ভেতরের জিনিস একটি ছবিতে সাজিয়ে দেখান।
- বিতরণের ছবিতে মুখ নয়, হাত ও প্যাকেট; কারও অনুমতি ছাড়া মুখের ছবি নয়।
প্রথমবারের সাধারণ ভুল
- চাহিদা না জেনে পুরোনো কাপড় বা রান্না খাবার পাঠানো।
- রাস্তার ধারে ট্রাক থামিয়ে ছুড়ে দেওয়া; দুর্বলরা কিছুই পায় না।
- স্বাক্ষর-তালিকা না রাখা, পরে হিসাব দিতে না পারা।
- নৌকায় লাইফ জ্যাকেট ছাড়া ওঠা।
যা ভুল হতে পারে, তখন কী করবেন
পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়া বা স্রোত তীব্র
যাত্রা থামান; হেঁটে স্রোত পার হবেন না; মাঝি যা বলে তাই মানুন।
তালিকার বাইরের মানুষের ভিড়
শান্ত থাকুন, নাম লিখে রাখুন, পরের দফায় বা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে দেওয়ার কথা বলুন।
প্যাকেট কম পড়া
কখনো তালিকা ছেড়ে দেবেন না; বাকিদের নাম রাখুন, দুদিনের মধ্যে পৌঁছান।
নগদ টাকা নিয়ে নিরাপত্তা
যতটা সম্ভব আগেই কিনে নিন; নগদ লুকিয়ে, একজনের কাছে নয়, দুজনের কাছে ভাগ করে রাখুন।
পাঠানোর মতো বার্তা ও চিঠি
কপি করুন, [বন্ধনীর] জায়গাগুলো পূরণ করুন, পাঠিয়ে দিন।
স্বেচ্ছাসেবকদের আমন্ত্রণ (হোয়াটসঅ্যাপ/ফেসবুক)
আসসালামু আলাইকুম। বন্যায় [গ্রাম/ইউনিয়ন]-এর [সংখ্যা]টি পরিবারের কাছে শুকনো খাবার, পানি ও স্যালাইন পৌঁছাতে চাই। প্যাকিং: [তারিখ], [সময়], [জায়গা]। বিতরণ: [তারিখ], ভোর ৬টায় রওনা। প্যাকিংয়ে যে কেউ আসতে পারেন; বিতরণে ১৮ বছরের বেশি ও পানিতে চলাচলে অভ্যস্তরা। নাম দিতে কাজের পাতায় যোগ দিন বা [নাম]-কে জানান। সাহায্যের প্রতিশ্রুতি কাজের পাতায়, প্রতিটি রসিদ সেখানে প্রকাশ হবে।
ইউনিয়ন পরিষদকে জানানোর চিঠি
বরাবর, চেয়ারম্যান, [ইউনিয়ন] ইউনিয়ন পরিষদ, [উপজেলা], [জেলা] বিষয়: বন্যাদুর্গত পরিবারে শুকনো খাবার বিতরণের তথ্য। জনাব, আমরা [দলের নাম] স্বেচ্ছাসেবক দল [তারিখ] তারিখে [ওয়ার্ড/গ্রাম]-এর [সংখ্যা]টি পরিবারে শুকনো খাবার, পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করতে চাই। তালিকা স্থানীয়ভাবে তৈরি; একটি কপি সংযুক্ত। কোনো পরিবার সরকারি ত্রাণ থেকে বাদ পড়লে জানালে আমরা তালিকায় যুক্ত করব। বিতরণ শেষে স্বাক্ষর-তালিকার কপি পরিষদে জমা দেব। বিনীত, [নাম], দলপ্রধান [তারিখ]
কাজ শেষে
- স্থানীয় সমন্বয়কের নম্বর ও পরিবারের তালিকা পরের দুর্যোগের জন্য রেখে দিন।
- দুই সপ্তাহ পর জানুন পানিবাহিত রোগ বা নতুন চাহিদা দেখা দিয়েছে কি না।
- বাকি টাকা বা জিনিসের হিসাব কাজের পাতায় প্রকাশ করুন।
সাধারণ প্রশ্ন
টাকা তুলব কীভাবে?
কাজের পাতায় প্রতিশ্রুতি নিন। টাকা সরাসরি দলের কাছে আসে; প্রতিটি কেনাকাটার রসিদ প্রমাণে দিন।
কী দেব না?
পুরোনো কাপড়ের স্তূপ ও রান্না করা খাবার যা নষ্ট হয়ে যায়। চাহিদার তালিকার বাইরে কিছু না।
পুরো সময় থাকতে না পারলে কি যোগ দেওয়া যাবে?
হ্যাঁ। যোগ দেওয়ার অনুরোধে লিখে দিন কোন ধাপে বা কোন সময়ে পারবেন। দলপ্রধান সেই ধাপটি আপনার নামে দেবেন।