কাজের তালিকা/দুর্যোগ প্রস্তুতি
স্কুলে ভূমিকম্প মহড়া, ঢাকা
জাপানের মতো: ঝুঁকে পড়ুন, ঢাকুন, ধরে রাখুন। একটি স্কুলে এক ঘণ্টার মহড়া ও খোলা জায়গা চিহ্নিত করা।
- ০/৪ জন
- আনুমানিক ৪ ঘণ্টা
- ১০
- পয়েন্ট

কাজটি সম্পর্কে
বিশেষজ্ঞরা ঢাকাকে বড় ভূমিকম্পে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শহরগুলোর একটি মনে করেন — ঘনবসতি আর পুরোনো ভবনের কারণে। একটি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের সম্মতিতে ভূমিকম্পের মহড়া: শিক্ষার্থীদের শেখানো — বসুন, মাথা ঢাকুন, ধরে থাকুন — তারপর ঘণ্টা বাজলে শান্তভাবে সারি করে খোলা মাঠে নির্ধারিত জায়গায় জমা হওয়া। সময় মেপে দেখা হয় পুরো স্কুল কত মিনিটে বের হলো।
কেন জরুরি
বাংলাদেশ সক্রিয় ভূকম্পন অঞ্চলে, আর ঢাকা-গাজীপুরসহ ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোকে বিশেষজ্ঞরা বড় ভূমিকম্পে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন। ভূমিকম্পে অনেক আঘাত আসে আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি আর সিঁড়িতে ভিড় থেকে। যে শিশু একবার মহড়া করেছে, সে জানে কী করতে হবে।
কাজ শেষে কী বদলাবে
পুরো স্কুল দুই মিনিটের মধ্যে খোলা জায়গায় জমা হয়েছে; প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে মহড়ার পোস্টার; স্কুল বছরে দুবার মহড়া করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কারা যোগ দিতে পারেন
যে কেউ; একজন শিক্ষক বা ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষণ পাওয়া মানুষ থাকলে ভালো।
ধাপে ধাপে
০/৩ ধাপ শেষযেভাবে করবেন, যে ক্রমে।সব ধাপ মিলিয়ে প্রায় ২.৫ ঘণ্টা
- ১
প্রধান শিক্ষকের অনুমতি ও দিন
এক ঘণ্টা, এক ক্লাস বা পুরো স্কুল।
৬০ মিনিট
করা হয়নিদায়িত্বে:কেউ নেননি - ২
শেখানো: ঝুঁকুন, ঢাকুন, ধরুন
বেঞ্চের নিচে, মাথা ঢেকে, কাঁপুনি থামা পর্যন্ত। তারপর সিঁড়ি দিয়ে, দৌড় নয়।
৪৫ মিনিটপোস্টার
করা হয়নিদায়িত্বে:কেউ নেননি - ৩
মহড়া ও খোলা জায়গায় জমায়েত
বাঁশি বাজলে সবাই বের হয়ে মাঠের চিহ্নিত জায়গায়। সময় মাপা, নাম ডাকা।
৪৫ মিনিটবাঁশি, চক
করা হয়নিদায়িত্বে:কেউ নেননি
কী কী লাগবে
- পোস্টার · ৫টি
কাজ শেষ বলব কখন
- পুরো স্কুল দুই মিনিটের মধ্যে খোলা জায়গায় জমা হয়েছে
যে প্রমাণ লাগবে
- ছবি
- ভিডিও
নিরাপত্তা
সিঁড়িতে ধাক্কাধাক্কি নয়। লিফট কখনো নয়।
কাজের পূর্ণ নির্দেশিকা
যা যা লাগবে, কীভাবে করবেন
আগে কখনো এই কাজ করেননি? সমস্যা নেই। খরচ, সময়সূচি, কে কী করবেন, কার সঙ্গে কথা বলবেন, কাজের দিনের সূচি, ঝুঁকি আর পাঠানোর মতো বার্তা — সব এখানে।
- আনুমানিক খরচ
- ৳১,৪০০–৩,৩০০
- দরকার
- ৪ জন
- মোট সময়
- ৪ ঘণ্টা
- বয়স
- ১৬ বছর বা বেশি
সেরা সময়স্কুল খোলা থাকার যেকোনো সময়; পরীক্ষার সপ্তাহ বাদে। সকালের প্রথম বা দ্বিতীয় পিরিয়ড ভালো, যখন সবাই ক্লাসে।
অনুমতিপ্রধান শিক্ষকের লিখিত সম্মতি লাগে; অভিভাবকদের আগে থেকে চিঠি বা ডায়েরিতে জানাতে হয়।
খরচের হিসাব
দাম জেলা ও মৌসুমভেদে বদলায়; এটি ২০২৬ সালের আনুমানিক হিসাব। রসিদ রাখুন, প্রমাণে দিন।
| কী | কতটা | দাম |
|---|---|---|
| পোস্টার: ঝুঁকুন, মাথা ঢাকুন, ধরে থাকুন (রঙিন, A3)৫টিকোথায় পাবেন: প্রিন্টের দোকান | ৫টি | ৳৪০–১০০ |
| বাঁশি৪টিকোথায় পাবেন: খেলাধুলার সামগ্রীর দোকান | ৪টি | ৳৩০–৮০ |
| চুন বা চক (মাঠে জমায়েতের ঘর আঁকতে)১ সেটকোথায় পাবেন: হার্ডওয়্যার বা স্টেশনারি দোকান | ১ সেট | ৳১০০–২৫০ |
| অভিভাবকদের নোটিশের ফটোকপি৩০০ কপিকোথায় পাবেন: ফটোকপির দোকান | ৩০০ কপি | ৳১–২ |
| প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স১টিকোথায় পাবেন: ফার্মেসি | ১টি | ৳৫০০–১,০০০ |
| স্বেচ্ছাসেবকদের পানি ও নাস্তা৪ জনকোথায় পাবেন: মুদি দোকান | ৪ জন | ৳৮০–১৫০ |
| মোট (আনুমানিক) | ৳১,৪০০–৩,৩০০ | |
প্রস্তুতির সময়সূচি
১৪ দিন আগে
- প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করে দিন, সময় ও পুরো স্কুল না এক ক্লাস, তা ঠিক করুন।
- নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনে সহযোগিতার আবেদন দিন।
৭ দিন আগে
- ভবন ঘুরে দেখুন: কোন সিঁড়ি দিয়ে কোন ক্লাস নামবে, কোথায় তালা বা বাধা।
- মাঠে জমায়েতের জায়গা ঠিক করুন: দেয়াল, বৈদ্যুতিক তার ও গাছ থেকে দূরে।
- অভিভাবকদের নোটিশ পাঠান।
৩ দিন আগে
- শিক্ষকদের ১৫ মিনিটের ব্রিফিং: সংকেত কী, কে কোন সিঁড়িতে, কে হাজিরা নেবে।
- প্রতিটি শ্রেণিকক্ষের দরজা থেকে মাঠের পথ লিখে রাখুন।
আগের দিন
- মাঠে চুন দিয়ে প্রতিটি ক্লাসের জায়গা আঁকুন।
- সিঁড়ি ও করিডোর থেকে বাধা সরানো হয়েছে কি না দেখুন।
কাজের দিন
- ক্লাসে শেখানো, তারপর বাঁশি বাজিয়ে মহড়া; সময় মাপুন।
- মাঠে নাম ডাকা, ফলাফল প্রধান শিক্ষককে জানানো।
দলে কে কী করবেন
মহড়া পরিচালক ও সময়রক্ষক১ জন
বাঁশি দেওয়া, সময় মাপা, শেষে কী ভালো-কী খারাপ বলা।
সিঁড়ির পাহারা২ জন
প্রতিটি সিঁড়িতে একজন: “হাঁটো, দৌড় নয়”, রেলিং ধরে।
মাঠে জমায়েত ও ছবি১ জন
ক্লাসগুলোকে চিহ্নিত জায়গায় বসানো, ছবি ও ভিডিও।
আগে কার সঙ্গে কথা বলবেন
স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটি
- কেন
- অনুমতি, সময় ও শিক্ষকদের সহযোগিতা তাদের হাতে।
- কীভাবে
- লিখিত আবেদন দিন; মহড়ার পরিকল্পনা এক পাতায় দেখান।
নিকটস্থ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন
- কেন
- তারা স্কুলে মহড়া ও প্রশিক্ষণ দেয়; থাকলে শিক্ষার্থীরা বেশি গুরুত্ব দেয়।
- কীভাবে
- স্টেশন অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন দিন, দুই সপ্তাহ আগে।
অভিভাবকেরা
- কেন
- আগে না জানলে শিশুরা বাড়ি গিয়ে ভয় পাওয়ার কথা বলতে পারে।
- কীভাবে
- ডায়েরি বা ছোট নোটিশে দিন-সময় জানান।
কাজের দিনের সূচি
- ০৮:৩০দল পৌঁছে সিঁড়ি, দরজা ও মাঠ আরেকবার দেখে।
- ০৯:০০শ্রেণিকক্ষে ১৫ মিনিট শেখানো: ঝুঁকুন, বেঞ্চের নিচে মাথা ঢাকুন, পায়া ধরে থাকুন; জানালা ও আলমারি থেকে দূরে।
- ০৯:৩০একবার ক্লাসে বসে অনুশীলন, বাঁশি ছাড়া।
- ০৯:৪৫বাঁশি: “ভূমিকম্প!” সবাই ঝুঁকে-ঢেকে-ধরে ৩০ সেকেন্ড।
- ০৯:৪৬দ্বিতীয় বাঁশি: কাঁপুনি থেমেছে; সারি করে, মাথা বই বা ব্যাগে ঢেকে, সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে মাঠে। লিফট নয়।
- ০৯:৫০মাঠে নিজ জায়গায় বসা; শ্রেণিশিক্ষক নাম ডাকেন; মোট সময় লেখা।
- ১০:০০সবাইকে নিয়ে পাঁচ মিনিট: কী ভালো হলো, কোথায় ভিড় হলো।
- ১০:১৫শ্রেণিকক্ষে পোস্টার লাগানো; প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে পরের মহড়ার দিন ঠিক করা।
প্রমাণের ছবি কীভাবে তুলবেন
- শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চের নিচে শিক্ষার্থীদের ছবি, পেছন বা পাশ থেকে।
- মাঠে সারিবদ্ধ জমায়েতের দূর থেকে ছবি ও ভিডিও, ঘড়ির সময়সহ।
- প্রধান শিক্ষকের সই করা এক লাইনের নোট: কত শিক্ষার্থী, কত মিনিটে।
- শিশুদের মুখ কাছ থেকে নয়; স্কুলের অনুমতি ছাড়া ছবি প্রকাশ নয়।
প্রথমবারের সাধারণ ভুল
- কাঁপুনির মধ্যেই দৌড়ে বের হতে শেখানো।
- ভবনের দেয়াল বা বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশে জমায়েতের জায়গা।
- একটিমাত্র সিঁড়ি দিয়ে সব ক্লাস নামানো।
- সময় না মাপা; পরের বার তুলনা করা যায় না।
যা ভুল হতে পারে, তখন কী করবেন
সিঁড়িতে ধাক্কাধাক্কি বা পড়ে যাওয়া
ক্লাস একে একে ছাড়ুন; সিঁড়ির পাহারা “থামো” বললে সবাই থামবে; প্রাথমিক চিকিৎসা হাতের কাছে।
ছোট শিশুরা ভয় পেয়ে কাঁদে
শুরুতে খেলার মতো বলুন; ছোটদের সঙ্গে একজন শিক্ষক বা স্বেচ্ছাসেবক থাকুক।
মহড়ার পর সত্যি ভূমিকম্পের গুজব
অভিভাবকদের নোটিশ আগে দিন; শেষে শিশুদের বলুন বাড়িতে কী হলো তা জানাতে।
পাঠানোর মতো বার্তা ও চিঠি
কপি করুন, [বন্ধনীর] জায়গাগুলো পূরণ করুন, পাঠিয়ে দিন।
স্বেচ্ছাসেবকদের আমন্ত্রণ
স্কুলে ভূমিকম্প মহড়া: [স্কুলের নাম], [তারিখ], সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩০ মিনিট। শিক্ষার্থীদের শেখাব: ঝুঁকুন, মাথা ঢাকুন, ধরে থাকুন; তারপর হেঁটে, দৌড়ে নয়, মাঠে জমায়েত। দরকার ৪ জন, ১৬ বছরের বেশি। সিঁড়িতে দাঁড়ানো ও ছবি তোলার কাজ। কাজের পাতায় যোগ দিন বা [নাম]-কে জানান।
প্রধান শিক্ষকের কাছে আবেদন
বরাবর, প্রধান শিক্ষক, [স্কুলের নাম], [ঠিকানা] বিষয়: বিদ্যালয়ে এক ঘণ্টার ভূমিকম্প মহড়া আয়োজনের অনুমতি। জনাব, আমরা [দলের নাম] স্বেচ্ছাসেবক দল আপনার বিদ্যালয়ে [তারিখ] সকাল [সময়]-এ এক ঘণ্টার একটি ভূমিকম্প মহড়া করতে চাই। শিক্ষার্থীদের শেখানো হবে কাঁপুনির সময় বেঞ্চের নিচে মাথা ঢেকে থাকা এবং কাঁপুনি থামলে শান্তভাবে সিঁড়ি দিয়ে মাঠের নির্ধারিত জায়গায় জমা হওয়া। মহড়ার আগে অভিভাবকদের নোটিশ দেওয়া হবে; নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ছবি আপনার অনুমতি ছাড়া প্রকাশ হবে না। বিনীত, [নাম], দলপ্রধান, [তারিখ]
কাজ শেষে
- প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে পোস্টার রেখে আসুন।
- স্কুলকে বছরে দুবার মহড়ার দিন ক্যালেন্ডারে বসাতে অনুরোধ করুন।
- যেখানে ভিড় হলো (সিঁড়ি, দরজা), তা প্রধান শিক্ষককে লিখে দিন।
- পরের মহড়ায় সময় আগের চেয়ে কমেছে কি না তুলনা করুন।
সাধারণ প্রশ্ন
ফায়ার সার্ভিস কি সাহায্য করে?
হ্যাঁ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্কুলে মহড়া ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। নিকটস্থ স্টেশনে আবেদন করুন; তাঁরা এলে মহড়া আরও শিক্ষণীয় হয়।
ভূমিকম্পের সময় দৌড়ে বের হওয়া কি ঠিক নয়?
কাঁপুনি চলার সময় নয়। তখন টেবিলের নিচে মাথা ঢেকে থাকুন; কাঁপুনি থামলে শান্তভাবে বের হন।
পুরো সময় থাকতে না পারলে কি যোগ দেওয়া যাবে?
হ্যাঁ। যোগ দেওয়ার অনুরোধে লিখে দিন কোন ধাপে বা কোন সময়ে পারবেন। দলপ্রধান সেই ধাপটি আপনার নামে দেবেন।