বাজারে ভেজাল-সচেতনতা দিন, ঢাকা
এক সকালে একটি বাজারে: ফরমালিন, কৃত্রিম রং, পচা মাছ চেনার সহজ উপায় দেখানো; অভিযোগের নম্বর বিলি।
- ০/৬ জন
- আনুমানিক ৪ ঘণ্টা
- ১০
- পয়েন্ট

কাজটি সম্পর্কে
ঢাকার বড় পাইকারি ও খুচরা বাজার থেকেই শহরের কোটি মানুষের খাবার আসে। বাজারের দিনে কমিটির অনুমতি নিয়ে একটি টেবিল আর পোস্টার: ভেজাল, অতিরিক্ত রং ও ফরমালিন চেনার সহজ উপায়, মেয়াদ দেখার অভ্যাস, আর অভিযোগ কোথায় করবেন। কাউকে দোষারোপ নয় — ক্রেতা ও বিক্রেতা দুজনকেই সচেতন করা।
কেন জরুরি
নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ অনুযায়ী ভেজাল খাবার বিক্রি অপরাধ, কিন্তু অনেক ক্রেতা জানেন না কীভাবে চিনবেন বা কোথায় জানাবেন। সচেতন ক্রেতাই বাজারকে বদলায়।
কাজ শেষে কী বদলাবে
অন্তত ২০০ লিফলেট মানুষের হাতে; বাজার কমিটি পোস্টার স্থায়ীভাবে রাখতে রাজি; অভিযোগের নম্বর দোকানে দোকানে।
কারা যোগ দিতে পারেন
যে কেউ; খাদ্য বা পুষ্টি নিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা খুব কাজের।
ধাপে ধাপে
০/৩ ধাপ শেষযেভাবে করবেন, যে ক্রমে।সব ধাপ মিলিয়ে প্রায় ৪ ঘণ্টা
- ১
বাজার কমিটিকে জানানো
কোনো দোকানকে লক্ষ্য নয়; ক্রেতাদের শেখানো।
৬০ মিনিট
করা হয়নিদায়িত্বে:কেউ নেননি - ২
একটি টেবিল, একটি পোস্টার
তাজা মাছের চোখ-কানকো, ফলে অস্বাভাবিক চকচকে রং, মিষ্টিতে কাপড়ের রং: ছবিসহ।
১২০ মিনিটটেবিল, পোস্টার, লিফলেট
করা হয়নিদায়িত্বে:কেউ নেননি - ৩
অভিযোগের পথ জানানো
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের হটলাইন ও ৩৩৩; লিফলেটে ছাপা।
৬০ মিনিটলিফলেট
করা হয়নিদায়িত্বে:কেউ নেননি
কী কী লাগবে
- লিফলেট · ৩০০টি
- পোস্টার · ৩টি
কাজ শেষ বলব কখন
- অন্তত ২০০ লিফলেট মানুষের হাতে
যে প্রমাণ লাগবে
- ছবি
নিরাপত্তা
কোনো বিক্রেতার সঙ্গে বিরোধে যাবেন না; সন্দেহ হলে কর্তৃপক্ষকে জানান।
কাজের পূর্ণ নির্দেশিকা
যা যা লাগবে, কীভাবে করবেন
আগে কখনো এই কাজ করেননি? সমস্যা নেই। খরচ, সময়সূচি, কে কী করবেন, কার সঙ্গে কথা বলবেন, কাজের দিনের সূচি, ঝুঁকি আর পাঠানোর মতো বার্তা — সব এখানে।
- আনুমানিক খরচ
- ৳১,৯০০–৪,৫০০
- দরকার
- ৬ জন
- মোট সময়
- ৪ ঘণ্টা
- বয়স
- ১৫ বছর বা বেশি
সেরা সময়সারা বছর, হাটবার বা শুক্র-শনিবার সকাল ৮টা–১২টা। আম-লিচুর মৌসুম (মে–জুলাই) ও রোজার আগে সবচেয়ে কাজের।
অনুমতিবাজার কমিটির সম্মতি লাগে; সরকারি বাজার হলে ইজারাদার বা পৌরসভার বাজার শাখাকেও জানান।
খরচের হিসাব
দাম জেলা ও মৌসুমভেদে বদলায়; এটি ২০২৬ সালের আনুমানিক হিসাব। রসিদ রাখুন, প্রমাণে দিন।
| কী | কতটা | দাম |
|---|---|---|
| লিফলেট (অর্ধেক পাতা, অভিযোগের নম্বর ১৬১২১ ও ৩৩৩ সহ)৩০০টিকোথায় পাবেন: প্রিন্ট বা ফটোকপির দোকান | ৩০০টি | ৳২–৪ |
| রঙিন পোস্টার, ছবিসহ (তাজা বনাম পচা মাছ, অস্বাভাবিক রং)৩টিকোথায় পাবেন: প্রিন্টের দোকান | ৩টি | ৳১৫০–৪০০ |
| ছোট পিভিসি ব্যানার১টিকোথায় পাবেন: ব্যানার প্রিন্টের দোকান | ১টি | ৳৪০০–৯০০ |
| টেবিল ও চেয়ার ভাড়া (কমিটি দিলে বিনা খরচে)১ সেটকোথায় পাবেন: ডেকোরেটরের দোকান | ১ সেট | ৳০–৩০০ |
| স্বেচ্ছাসেবকদের পানি ও নাস্তা৬ জনকোথায় পাবেন: মুদি দোকান | ৬ জন | ৳৮০–১৫০ |
| মোট (আনুমানিক) | ৳১,৯০০–৪,৫০০ | |
প্রস্তুতির সময়সূচি
৭ দিন আগে
- বাজার কমিটির সভাপতি বা সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করে দিন ও টেবিলের জায়গা ঠিক করুন।
- পরিষ্কার বলুন: কোনো দোকানকে লক্ষ্য নয়, ক্রেতাদের শেখানো।
৩ দিন আগে
- পোস্টার ও লিফলেটের লেখা চূড়ান্ত করুন; নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিদপ্তরের প্রকাশিত পরামর্শ মিলিয়ে নিন।
- ছাপাতে দিন।
- দলকে শেখান: তাজা মাছের চোখ স্বচ্ছ, কানকো লাল, গায়ে চাপ দিলে ফিরে আসে।
আগের দিন
- টেবিল ও চেয়ার নিশ্চিত করুন।
- কার দায়িত্ব কী, ভাগ করে দিন।
কাজের দিন
- সকালের ভিড়ে টেবিল বসান, লিফলেট হাতে হাতে দিন।
- দোকানিদেরও লিফলেট দিন ও পোস্টার দেখান।
পরের সপ্তাহে
- বাজার কমিটিকে পোস্টার স্থায়ীভাবে রাখার অনুরোধ জানান।
- ক্রেতারা কী প্রশ্ন করলেন, তা লিখে পরের বারের লিফলেটে যোগ করুন।
দলে কে কী করবেন
দলপ্রধান ও কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ১ জন
কমিটির সঙ্গে কথা, বিরোধ হলে সামলানো।
টেবিলে বোঝানো২ জন
পোস্টার দেখিয়ে চেনার উপায় বোঝানো।
লিফলেট বিতরণ২ জন
বাজারে ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাকে লিফলেট দেওয়া, গোনা।
ছবি ও হিসাব১ জন
ছবি তোলা, কত লিফলেট গেল তা লেখা।
আগে কার সঙ্গে কথা বলবেন
বাজার কমিটির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক
- কেন
- বাজারের জায়গা ও দোকানিদের আস্থা তাদের হাতে।
- কীভাবে
- সামনাসামনি দেখা করে লিখিত নোটিশ দিন; পোস্টারের খসড়া দেখান।
উপজেলা বা জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তার দপ্তর
- কেন
- অভিযোগ গেলে ব্যবস্থা নেয়; তথ্য ঠিক আছে কি না বলতে পারে।
- কীভাবে
- আগে জানিয়ে রাখুন; সম্ভব হলে কাউকে টেবিলে আসতে অনুরোধ করুন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়
- কেন
- অভিযোগের পথ (১৬১২১) তাদের।
- কীভাবে
- লিফলেটে নম্বর ঠিক আছে কি না নিশ্চিত হয়ে নিন।
কাজের দিনের সূচি
- ০৭:৩০পৌঁছে টেবিল, ব্যানার ও পোস্টার বসানো।
- ০৮:০০কমিটির প্রতিনিধিকে ধন্যবাদ, শুরু।
- ০৮:১৫টেবিলে বোঝানো: মাছ, ফল, মিষ্টি, মসলার রং; প্যাকেটের মেয়াদ দেখা।
- ০৯:০০লিফলেট দল বাজারে ঘোরে; প্রতি ঘণ্টায় গোনা।
- ১০:৩০পালা বদল ও পানি বিরতি।
- ১১:৩০দোকানিদের সঙ্গে কথা: পোস্টার রাখতে আগ্রহী কি না।
- ১২:০০গুটিয়ে নেওয়া, জায়গা পরিষ্কার, মোট লিফলেট গোনা।
প্রমাণের ছবি কীভাবে তুলবেন
- টেবিল ও পোস্টারের ছবি, পেছনে বাজার দেখা যায় এমন।
- ক্রেতার হাতে লিফলেট দেওয়ার ছবি, মুখ নয়।
- কত লিফলেট গেল তার হিসাব ও বাকি লিফলেটের ছবি।
- কোনো নির্দিষ্ট দোকানের ছবি দিয়ে অভিযোগ নয়।
প্রথমবারের সাধারণ ভুল
- দোকানির অনুমতি ছাড়া পণ্য পরীক্ষা করা বা ছবি তুলে ফেসবুকে দেওয়া।
- বাজার কমিটিকে না জানিয়ে টেবিল বসানো।
- লিফলেটে ভুল বা পুরোনো অভিযোগ নম্বর।
- শুধু ভয় দেখানো, চেনার সহজ উপায় না শেখানো।
যা ভুল হতে পারে, তখন কী করবেন
কোনো দোকানির মনে হয় তাঁকে দোষ দেওয়া হচ্ছে
বিনয়ের সঙ্গে বোঝান এটি সবার জন্য; তবুও আপত্তি থাকলে টেবিল সরিয়ে নিন, কমিটিকে ডাকুন।
ক্রেতা নির্দিষ্ট দোকানের বিরুদ্ধে ভেজালের অভিযোগ আনেন
নিজেরা যাচাই বা ধরপাকড় নয়; ১৬১২১ বা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তার কাছে অভিযোগের পথ দেখিয়ে দিন।
ভুল তথ্য ছড়ানো (যেমন ঘরোয়া পরীক্ষাকে নিশ্চিত প্রমাণ বলা)
বলুন এগুলো সন্দেহের লক্ষণ, প্রমাণ নয়; প্রমাণ দেয় কর্তৃপক্ষের পরীক্ষাগার।
পাঠানোর মতো বার্তা ও চিঠি
কপি করুন, [বন্ধনীর] জায়গাগুলো পূরণ করুন, পাঠিয়ে দিন।
স্বেচ্ছাসেবকদের আমন্ত্রণ
বাজারে ভেজাল-সচেতনতা দিন: [বাজারের নাম], [তারিখ], সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ১২টা। একটি টেবিল আর পোস্টার নিয়ে ক্রেতাদের দেখাব তাজা মাছ, অস্বাভাবিক রং আর মেয়াদ চেনার সহজ উপায়, আর অভিযোগের নম্বর ১৬১২১। কোনো দোকানকে দোষ দেওয়া নয়। দরকার ৬ জন; খাদ্য-পুষ্টির শিক্ষার্থীরা বিশেষভাবে আমন্ত্রিত। কাজের পাতায় যোগ দিন বা [নাম]-কে জানান।
বাজার কমিটিকে নোটিশ ও অনুরোধ
বরাবর, সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক, [বাজারের নাম] বাজার কমিটি, [ঠিকানা] বিষয়: ক্রেতা-সচেতনতার জন্য একটি তথ্য টেবিল বসানোর অনুমতি। জনাব, আমরা [দলের নাম] স্বেচ্ছাসেবক দল [তারিখ] সকাল ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বাজারের [জায়গা]-এ একটি টেবিল বসিয়ে ক্রেতাদের তাজা ও নিরাপদ খাবার চেনার সহজ উপায় এবং অভিযোগের সরকারি নম্বর জানাতে চাই। আমরা কোনো দোকান বা বিক্রেতাকে লক্ষ্য করব না, কোনো পণ্য পরীক্ষা করব না। পোস্টারের খসড়া সংযুক্ত। আপনারা রাজি হলে পোস্টারগুলো বাজারে স্থায়ীভাবে রেখে যেতে চাই। বিনীত, [নাম], দলপ্রধান, [তারিখ]
কাজ শেষে
- পোস্টার বাজারের প্রবেশপথে স্থায়ীভাবে রাখার ব্যবস্থা করুন।
- তিন মাস পর একই বাজারে আবার একটি সকাল।
- যে দোকানিরা আগ্রহী, তাদের দোকানে অভিযোগের নম্বর লাগিয়ে দিন।
সাধারণ প্রশ্ন
ভেজাল পেলে কোথায় জানাব?
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ বা তাদের ওয়েবসাইটে অভিযোগ করুন; নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকেও জানানো যায়।
পুরো সময় থাকতে না পারলে কি যোগ দেওয়া যাবে?
হ্যাঁ। যোগ দেওয়ার অনুরোধে লিখে দিন কোন ধাপে বা কোন সময়ে পারবেন। দলপ্রধান সেই ধাপটি আপনার নামে দেবেন।