মূল অংশে যান

এখন চলছে

কাজের তালিকা/সবুজ ও পরিবেশ

হাত দরকারকঠিনজেলা

গাছ লাগানো ও দেখভাল, দিনাজপুর

রাস্তার পাশে বা স্কুলে গাছ, বেড়া আর এক বছর পানি।

০/১৫ জন
আনুমানিক ৩০ ঘণ্টা
৫০
পয়েন্ট

কাজটি সম্পর্কে

উত্তরের দিনাজপুরে গ্রীষ্মে প্রচণ্ড গরম পড়ে; রাস্তার ছায়াগাছ পথচারী ও কৃষকদের স্বস্তি দেয়। রাস্তার পাশে, স্কুলের মাঠে বা খালের পাড়ে দেশি প্রজাতির গাছ লাগানো, প্রতিটিতে বাঁশের বেড়া, আর এক বছরের পানি দেওয়ার পালা — কে কোন সপ্তাহে। গাছ লাগানো সহজ, বাঁচিয়ে রাখাই আসল কাজ।

কেন জরুরি

শহরের গাছ গ্রীষ্মে রাস্তা কয়েক ডিগ্রি ঠান্ডা রাখে, ধুলা আটকায়, পাখির আশ্রয় দেয়। কিন্তু লাগানো চারার বড় অংশ প্রথম বছরেই মারা যায় — বেড়া আর পানির অভাবে।

কাজ শেষে কী বদলাবে

লাগানো গাছ বেড়াসহ দাঁড়িয়ে; তিন মাস পরে অন্তত ৮০% বেঁচে; পানি দেওয়ার পালা দেয়ালে টাঙানো।

কারা যোগ দিতে পারেন

যে কেউ; পানি দেওয়ার পালায় কাছের বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে কাজের।

ধাপে ধাপে

০/৪ ধাপ শেষ

যেভাবে করবেন, যে ক্রমে।সব ধাপ মিলিয়ে প্রায় ১৬ ঘণ্টা

  1. ১

    জায়গা ও গাছ বাছাই

    দেশি গাছ: নিম, কৃষ্ণচূড়া, বকুল, আম।

    ১২০ মিনিট

    করা হয়নিদায়িত্বে:কেউ নেননি
  2. ২

    গর্ত ও লাগানো

    ৪৮০ মিনিটচারা, কোদাল, সার

    করা হয়নিদায়িত্বে:কেউ নেননি
  3. ৩

    বেড়া

    ছাগল থেকে বাঁচাতে বাঁশের খাঁচা।

    ৩০০ মিনিটবাঁশ, দড়ি

    করা হয়নিদায়িত্বে:কেউ নেননি
  4. ৪

    পানি দেওয়ার পালা

    প্রতি সপ্তাহে কে, লেখা তালিকা।

    ৬০ মিনিট

    করা হয়নিদায়িত্বে:কেউ নেননি

কী কী লাগবে

  • চারা · ১০০টি
  • বাঁশের খাঁচা · ১০০টি

কাজ শেষ বলব কখন

  • লাগানো গাছ বেড়াসহ দাঁড়িয়ে
  • তিন মাস পরে অন্তত ৮০% বেঁচে

যে প্রমাণ লাগবে

  • আগের ছবি
  • পরের ছবি
  • রসিদ

কাজের পূর্ণ নির্দেশিকা

যা যা লাগবে, কীভাবে করবেন

আগে কখনো এই কাজ করেননি? সমস্যা নেই। খরচ, সময়সূচি, কে কী করবেন, কার সঙ্গে কথা বলবেন, কাজের দিনের সূচি, ঝুঁকি আর পাঠানোর মতো বার্তা — সব এখানে।

আনুমানিক খরচ
৳২০,০০০–৫০,৪০০
দরকার
১৫ জন
মোট সময়
৩০ ঘণ্টা
বয়স
যেকোনো বয়স

সেরা সময়বর্ষা, আষাঢ় থেকে ভাদ্র (জুন–আগস্ট)। মাটি ভেজা থাকে, চারা সহজে ধরে, পানি কম লাগে। এ সময় সরকারি নার্সারিতে চারাও বেশি পাওয়া যায়।

অনুমতিজায়গার মালিকের অনুমতি লাগে: রাস্তার পাশে পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ বা সড়ক বিভাগ; স্কুলে প্রধান শিক্ষক; খালের পাড়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। লিখিত নিন।

খরচের হিসাব

দাম জেলা ও মৌসুমভেদে বদলায়; এটি ২০২৬ সালের আনুমানিক হিসাব। রসিদ রাখুন, প্রমাণে দিন।

কীদাম
দেশি গাছের চারা (৩–৪ ফুট)১০০টিকোথায় পাবেন: বন অধিদপ্তরের নার্সারি বা স্থানীয় নার্সারি৳৩০–১৫০
বাঁশের খাঁচা (বানানোসহ)১০০টিকোথায় পাবেন: বাঁশের হাট বা স্থানীয় কারিগর৳১২০–২৫০
জৈব সার বা গোবর সার২০০ কেজিকোথায় পাবেন: নার্সারি বা কৃষি উপকরণের দোকান৳১০–২০
নাইলন বা পাটের দড়ি১ সেটকোথায় পাবেন: স্থানীয় বাজার৳৫০০–১,০০০
কোদাল (ধার নিলে খরচ নেই)৫টিকোথায় পাবেন: হার্ডওয়্যারের দোকান৳৩৫০–৭০০
বালতি বা ঝাঁঝরি৪টিকোথায় পাবেন: স্থানীয় বাজার৳১৫০–৩৫০
পানির পালার তালিকা, ল্যামিনেট১টিকোথায় পাবেন: প্রিন্টিং দোকান৳২০০–৫০০
মোট (আনুমানিক)৳২০,০০০–৫০,৪০০

প্রস্তুতির সময়সূচি

  1. ৩ সপ্তাহ আগে

    • জায়গা ঠিক করুন: রোদ পায়, বৈদ্যুতিক তারের নিচে নয়, ড্রেন বা পাইপের ওপরে নয়।
    • জমির মালিকের লিখিত অনুমতি নিন।
    • বন অধিদপ্তরের নার্সারি বা উপজেলা কৃষি অফিসে চারার খোঁজ নিন।
  2. ৭ দিন আগে

    • বাঁশের খাঁচার অর্ডার দিন।
    • পানির পালার জন্য কাছের বাসিন্দা, দোকানদার বা শিক্ষার্থীদের নাম নিন।
    • প্রতিটি গাছের জায়গা খুঁটি পুঁতে চিহ্নিত করুন, ১০–১৫ ফুট দূরে দূরে।
  3. আগের দিন

    • চারা এনে ছায়ায় রাখুন, পানি দিন।
    • সম্ভব হলে গর্ত আগেই খুঁড়ে রাখুন (২ ফুট × ২ ফুট)।
  4. কাজের দিন

    • গর্তে সার মেশানো মাটি, চারা, পানি।
    • প্রতিটিতে খাঁচা বাঁধা।
    • পানির পালার তালিকা টাঙানো।
  5. পরের সপ্তাহে ও পরের মাসগুলোতে

    • মরা চারা বদলে দিন।
    • তিন মাস পর গুনে দেখুন কতগুলো বেঁচে আছে।

দলে কে কী করবেন

  • দলপ্রধান১ জন

    অনুমতি, চারা সংগ্রহ, দিনের সমন্বয়।

  • গর্ত ও লাগানোর দল৯ জন

    ৩ জন করে ছোট দলে গর্ত, সার, চারা, পানি।

  • খাঁচা দল৩ জন

    খাঁচা বসিয়ে দড়ি দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা।

  • পানির পালা সমন্বয়ক১ জন

    এক বছরের তালিকা বানানো, প্রতি সপ্তাহে কে পানি দিল খোঁজ রাখা।

  • ছবি ও গণনা১ জন

    আগে-পরের ছবি, প্রতিটি গাছের নম্বর ও প্রজাতির তালিকা।

আগে কার সঙ্গে কথা বলবেন

  • বন অধিদপ্তরের নার্সারি বা উপজেলা কৃষি অফিস

    কেন
    বিনামূল্যে বা কম দামে চারা ও কোন গাছ কোথায় ভালো, সে পরামর্শ।
    কীভাবে
    ৩ সপ্তাহ আগে অফিসে গিয়ে কতটি, কোন প্রজাতি লাগবে জানিয়ে আবেদন করুন।
  • জমির মালিক: পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ বা প্রধান শিক্ষক

    কেন
    অনুমতি ছাড়া লাগানো গাছ পরে কেটে ফেলা হতে পারে।
    কীভাবে
    লিখিত আবেদন দিন, জায়গার নকশা সংযুক্ত করুন।
  • কাছের বাসিন্দা ও দোকানদার

    কেন
    এক বছর পানি দেবেন তাঁরাই।
    কীভাবে
    প্রতিটি গাছ একজনের নামে দিন; তালিকায় নাম লিখুন।

কাজের দিনের সূচি

  1. ০৭:০০জড়ো হওয়া, ছোট দলে ভাগ, প্রতিটি দলকে খুঁটির সারি দেওয়া।
  2. ০৭:১৫কোদাল দেওয়ার আগে মাটির নিচে পাইপ বা তার আছে কিনা জেনে নেওয়া।
  3. ০৭:৩০গর্ত খোঁড়া (আগে না খুঁড়ে থাকলে)।
  4. ০৯:৩০সার মেশানো, চারা বসানো, পলিব্যাগ খুলে ফেলা, পানি।
  5. ১১:০০বিশ্রাম ও পানি।
  6. ১১:১৫খাঁচা বসানো ও বাঁধা।
  7. ১৩:০০গাছের নম্বর ও প্রজাতি লেখা; পানির পালার তালিকা টাঙানো।
  8. ১৩:৩০পরের ছবি, জিনিসপত্র গোছানো, পলিব্যাগ কুড়িয়ে নেওয়া।

প্রমাণের ছবি কীভাবে তুলবেন

  • আগের ও পরের ছবি একই জায়গা থেকে, পুরো সারি দেখা যায় এমন।
  • কয়েকটি গাছের কাছের ছবি, খাঁচাসহ।
  • চারা ও খাঁচার রসিদ; বিনামূল্যে পেলে নার্সারির দেওয়া কাগজ।
  • তিন মাস পর একই জায়গা থেকে আবার ছবি, কতগুলো বেঁচে আছে লিখে।

প্রথমবারের সাধারণ ভুল

  • পলিব্যাগ না খুলে চারা লাগানো; শিকড় বাড়ে না।
  • বৈদ্যুতিক তারের নিচে বড় গাছ লাগানো।
  • ইউক্যালিপটাস বা আকাশমণি লাগানো; দেশি প্রজাতি বেছে নিন।
  • লাগানোর দিনই শেষ মনে করা; পানির পালা ছাড়া অর্ধেক মরে যায়।

যা ভুল হতে পারে, তখন কী করবেন

  • ছাগল-গরু চারা খেয়ে ফেলছে

    খাঁচা ঠিক মাটিতে পুঁতে খুঁটির সঙ্গে বাঁধুন; ভাঙা খাঁচা সঙ্গে সঙ্গে মেরামত করুন।

  • শুকনো মৌসুমে পানি পাচ্ছে না

    পালার সমন্বয়ক প্রতি সপ্তাহে খোঁজ নিন; গোড়ায় শুকনো পাতা বিছিয়ে দিন।

  • মাটির নিচে পাইপ বা তার

    সন্দেহ হলে খোঁড়া থামিয়ে জায়গা সরান।

  • কেউ গাছ উপড়ে ফেলেছে

    নতুন চারা লাগান; পাশের দোকানদারকে দেখভালের অনুরোধ করুন।

পাঠানোর মতো বার্তা ও চিঠি

কপি করুন, [বন্ধনীর] জায়গাগুলো পূরণ করুন, পাঠিয়ে দিন।

স্বেচ্ছাসেবক আহ্বান

শুভেচ্ছা। [জায়গার নাম]-এ ১০০টি দেশি গাছ লাগাব, প্রতিটিতে বাঁশের খাঁচা। তারিখ: [তারিখ], সকাল ৭টা থেকে দুপুর দেড়টা। জড়ো হওয়া: [জায়গা]। কোদাল থাকলে সঙ্গে আনুন। গ্লাভস ও পানি আমরা দেব। শুধু লাগানো নয়, এক বছর পানি দেওয়ার পালাতেও নাম দিন — সপ্তাহে মাত্র একদিন। নাম দিন দেশের কাজ-এর কাজের পাতায়।

জমির মালিক বা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন

তারিখ: [তারিখ] বরাবর, [মেয়র/চেয়ারম্যান/প্রধান শিক্ষক], [প্রতিষ্ঠান] বিষয়: [জায়গার নাম]-এ স্বেচ্ছাশ্রমে বৃক্ষরোপণের অনুমতির আবেদন। জনাব, আমরা এলাকার স্বেচ্ছাসেবকরা আগামী [তারিখ] [জায়গার নাম/রাস্তার অংশ]-এ নিজ উদ্যোগে প্রায় [সংখ্যা]টি দেশি প্রজাতির গাছ (যেমন নিম, জারুল, বকুল, আম, কাঁঠাল) লাগাতে চাই। প্রতিটি গাছে বাঁশের খাঁচা থাকবে এবং এলাকাবাসীর একটি পালা অনুযায়ী এক বছর নিয়মিত পানি দেওয়া হবে। গাছগুলো বৈদ্যুতিক তার ও পাইপলাইন থেকে দূরে লাগানো হবে। জায়গার নকশা সংযুক্ত করলাম। সদয় অনুমতি দানে বাধিত করবেন। বিনীত, [নাম], দলপ্রধান [মোবাইল নম্বর]

কাজ শেষে

  • এক বছর প্রতি সপ্তাহে পানির পালা চালু রাখুন; শুকনো মৌসুমে সপ্তাহে দুবার।
  • ৩ মাস ও ১২ মাস পর বেঁচে থাকা গাছ গুনে ছবিসহ প্রতিবেদন দিন।
  • মরা চারা পরের বর্ষায় বদলে দিন; খাঁচা ২–৩ বছর রাখুন।

সাধারণ প্রশ্ন

চারা কোথায় পাব?

বন অধিদপ্তরের নার্সারি ও উপজেলা কৃষি অফিস অনেক সময় বিনামূল্যে বা কম দামে চারা দেয়, বিশেষ করে বর্ষায় বৃক্ষরোপণ মৌসুমে।

কোন গাছ লাগাব না?

ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণির মতো বিদেশি প্রজাতি এড়িয়ে চলুন; দেশি প্রজাতি পাখি ও মাটির জন্য ভালো।

পুরো সময় থাকতে না পারলে কি যোগ দেওয়া যাবে?

হ্যাঁ। যোগ দেওয়ার অনুরোধে লিখে দিন কোন ধাপে বা কোন সময়ে পারবেন। দলপ্রধান সেই ধাপটি আপনার নামে দেবেন।

মানচিত্র

লগইন, ভাষা আর অ্যাডমিন সাইডবার ছাড়া শুধু Google Analytics-এর কুকি আছে, যা গোনে কোন পাতা পড়া হচ্ছে আর পাঠকেরা কোথা থেকে আসছেন। কোনো বিজ্ঞাপন নেই, আপনার তথ্য আমরা কখনো বিক্রি করি না। বিস্তারিত